Showing posts with label Youtube Income. Show all posts
Showing posts with label Youtube Income. Show all posts

Wednesday, August 29, 2018

ইউটিউব থেকে প্রচুর টাকা আয়ের উপায়

ইউটিউব থেকে প্রচুর টাকা আয়ের উপায়

আপনি কি ভালো ভিডিও করতে পারেন? এডিটিং জানেন? না জানলে আগে শিখে নিন। খুলে ফেলুন ইউটিউব চ্যানেল। চ্যানেল খুলে হাজার পাঁচেক সাবসক্রাইবার করে ফেলুন। ভালো মানের ভিডিও পোস্ট করে ভিউ বাড়ান। ভিডিও দেখার সময় বাড়ান। এরপর অ্যাপ্লাই করুন গুগলের অ্যাডসেন্সর জন্য।ইউটিউব চ্যানেল খুলে অনেকে লাখ লাখ টাকা ইনকাম করছেন। আপনি বসে থাকবেন কেন?

একজন ইউটিউবারের গল্প জানি, যিনি মফস্বলে বাস করেন।কি করবেন বুঝতে পারছিলেন না। পরে একটি ইউটিউব চ্যানেল করে তাতে ভিডিও পোস্ট করতে থাকেন। একটি ভিডিও কয়েক মিলিয়ন হিট হয়ে যায়। এরপর তাকে পায় কে? মাসে তার ও চ্যানেল থেকে লাখ টাকা আয় আসছে।
তবে, এখন ইউটিউব কর্তৃপক্ষ মানে গুগল চ্যানেলের বিষয়ে খুব কড়া। মনিটাইজ করতে গেলে অনেক কাঠখড় পোহাতে হবে। আর সাবসক্রাইবার জোগাড় করাও অনেক কঠিন কাজ। কিন্তু দিনশেষে ভালো কনটেন্ট, পরিশ্রম, ইনভেস্ট আর প্রচেষ্টা থাকলে অবশ্যই পারবেন।
এর মধ্যে, গুগল ভিডিও নির্মাতাদের আরও সুখবর দিয়েছে।বিজ্ঞাপন না দেখে ভিডিও দেখার দিন শেষ। ইউটিউব প্ল্যাটফর্মে সহজে এড়াতে পারবেন না এমন বিজ্ঞাপন চালু করতে যাচ্ছে গুগল কর্তৃপক্ষ। এতে অবশ্য ইউটিউব ভিডিও নির্মাতাদের লাভ হবে। তারা ইউটিউব চ্যানেল থেকে আরও বেশি আয় করতে পারবেন।
গত শুক্রবার ইউটিউব ক্রিয়েটর ইনসাইড চ্যানেলে এক ভিডিও পোস্ট করে ইউটিউব কর্তৃপক্ষ বলেছে, ইউটিউবে নতুন বিজ্ঞাপন দেখানো এ সপ্তাহ থেকে শুরু হবে। ভিডিও নির্মাতারা তাদের ড্যাশবোর্ডে এ সংক্রান্ত নোটিফিকেশন পাবেন। ‘নন–স্কিপেবল’ বা সহজে এড়ানো যায় না এমন বিজ্ঞাপনগুলো ভিডিও নির্মাতারা তাদের চ্যানেলে চালু থাকা ভিডিওগুলোতে যুক্ত করতে পারবেন।
এ ছাড়াও ইউটিউব চ্যানেলের জন্য একটি টুল চালু করছে যাতে অনেকগুলো ভিডিওতে একসঙ্গে বিজ্ঞাপন চালু বা বন্ধ করা যাবে। এমনকি এ বিজ্ঞাপন চালিয়ে আয় বাড়ছে কিনা তা পরীক্ষা করেও দেখা যাবে। ইউটিউব প্ল্যাটফর্মে যারা ভিডিও পোস্ট করে অর্থ আয় করেন বা ইউটিউব পার্টনার প্রোগ্রামের অংশ তারা এ ফিচার ব্যবহার করতে পারবেন। এ বছরের জানুয়ারিতে ইউটিউব ভিডিওতে বিজ্ঞাপনের জন্য ২০ সেকেন্ড সময় বেধে দেয় ইউটিউব কর্তৃপক্ষ
গুগল কি চায় এখন?
গুগল কর্তৃপক্ষ ইউটিউব চ্যানেলগুলোর জন্য বিশেষ পর্যবেক্ষণ প্রক্রিয়া চালু করেছে। এ ছাড়া যেসব চ্যানেলে ১০ হাজারের কম ভিউ রয়েছে, সেগুলোতে বিজ্ঞাপন দেখানো বন্ধ করে দিয়েছে। গুগল কর্তৃপক্ষ বলছে, আপত্তিকর ও পাইরেটেড ভিডিও প্রদর্শন করে অর্থ আয়ের সুবিধা বন্ধ করতে এ উদ্যোগ নিয়েছে তারা।
এর কারণ হচ্ছে আপত্তিকর কনটেন্ট বা ভিডিওর জন্য গুগলের ইউটিউবে বিজ্ঞাপন বয়কট করার ঘোষণা দিয়েছে বিভিন্ন ব্র্যান্ড। বিষয়টি নিয়ে গুগল বেশ অস্বস্তিতে রয়েছে। ব্র্যান্ডগুলো মনে করছে, ইউটিউবের আপত্তিকর ভিডিওতে তাদের বিজ্ঞাপন দেখানো হলে মানুষ ওই ভিডিওর সঙ্গে তাদের ব্র্যান্ডের তুলনা করবে।
বিজ্ঞাপন দেখানোর নতুন সিদ্ধান্ত সম্পর্কে পণ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট এরিয়েল বারডিন বলেন, ‘নতুন মান নির্ধারণ করার ফলে কোনো চ্যানেলের বৈধতা দেওয়ার বিষয়ে আমাদের কাছে যথেষ্ট তথ্য থাকবে। কমিউনিটি গাইডলাইন বা বিজ্ঞাপন নীতিমালা মানা হচ্ছে কি না, সে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে।
বারডিন বলেছেন, যাঁরা অর্থ আয় করার লক্ষ্যে নতুন করে ইউটিউব চ্যানেল তৈরি করবেন, (নিউ ক্রিয়েটরস) তাঁদের জন্য পর্যালোচনা প্রক্রিয়া চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে গুগলের।
যখন কোনো চ্যানেলের ভিউ বা ভিডিও দর্শক ১০ হাজার ছাড়িয়ে যাবে, তখন ওই চ্যানেলের ভিডিওগুলো পর্যালোচনা করে দেখা হবে। যদি ওই ভিডিও ইউটিউবের কোনো নীতিমালা ভঙ্গ করে, তখন আর বিজ্ঞাপন পাবে না। এই প্রক্রিয়ার ফলে এখন থেকে শুধু প্রকৃত ও নিয়মনীতি অনুসরণকারী ভিডিও নির্মাতারাই আয়ের সুযোগ পাবেন।
গুগলের এখন বিজ্ঞাপনদাতাদের খুশি করা ও ভিডিও নির্মাতাদের মধ্যে সামঞ্জস্য রাখতে হবে। গুগল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সম্প্রতি নতুন একধরনের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাযুক্ত সিস্টেম তৈরি করেছে, যার মাধ্যমে ইউটিউব ভিডিও নীতিমালা মানতে বাধ্য করা হবে। এতে বিজ্ঞাপনদাতাদের চোখে আপত্তিকর ভিডিওগুলোকে বাছাই করতে সুবিধা হবে। এতে বিজ্ঞাপনদাতাদের পছন্দ প্রতিফলিত হবে।
এ ছাড়া বিজ্ঞাপনদাতাদের বিজ্ঞাপন যাতে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত চ্যানেলে পোস্ট না হয়, তা খেয়াল করতে থার্ড পার্টির সঙ্গে কাজ করবে গুগল। ইউটিউব ভিডিওতে যাতে চরমপন্থী বিষয়বস্তুর সঙ্গে বিজ্ঞাপন না দেখায়, সে ভয়ে বিজ্ঞাপনদাতারা পিছু হটছে। তাই বিজ্ঞাপনদাতাদের হাতে অধিকতর নিয়ন্ত্রণ দিচ্ছে গুগল।
কিভাবে শুরু করবেন?
নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেল শুরু করবেন ভাবছেন? কাজটি কিন্তু মোটেও সোজা নয়৷ প্রতি পদক্ষেপেই প্রয়োজন সৃজনশীল চিন্তাভাবনার৷ ইউটিউব একটি চটজলদি উপার্জনের পথ, ভাবনাটিই ভুল৷ একটি ভাইরাল ভিডিওকে মাধ্যম করে চ্যানেলটিকে দীর্ঘদিন চালানো সম্ভব নয়৷ ভিডিয়োর নতুনত্বের উপরেই নির্ভর করবে চ্যানেলটির আয়ু৷ তাই, বেছে নিন নিত্যনতুন বিষয়৷ যা সাবসক্রাইবারের সংখ্যা বাড়তে সাহায্য করবে৷
একটি প্রচলিত ভুল ধারণা রয়েছে৷ অনেকেই ভাবেন কতজন ভিডিওটি দেখছেন সেটিই পরে ইউটিউব মানিতে পরিবর্তিত হয়ে চলেছে৷ কিন্তু, বিষয়টি সম্পূর্ণ অন্য৷ ইউটিউবে ভিডিও শুরু হওয়ার পূর্বে একটি বিজ্ঞাপন দেখা যায়৷ যেটিকে দর্শক এড়িয়ে যেতে পছন্দ করেন৷ আশ্চর্যের বিষয়, সেটিই আপনার অ্যাকাউন্টের লাভের পরিমানকে বাড়ায়৷ ভিডিওটিতে বিজ্ঞাপন যোগ করার জন্য ইউটিউব পার্টনার প্রোগামে সাইন-আপ প্রয়োজন৷ ১০০০ বেশী সাবসক্রাইবার থাকলে তবেই প্রোগামটির সঙ্গে যুক্ত হওয়া যায়৷
কীভাবে ইউটিউব চ্যানেল খুলবেন?
গুগল অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ইউটিউবে সাইন-আপ করুন৷ অ্যাকাউন্টটিকে আকর্ষণীয় করার জন্য একটি কভার ইমেজ দিন৷ আগে থেকেই বেশ কয়েকটি বিষয়কে তৈরী রাখুন৷ সঠিক বিষয়ের নির্বাচন আপনার সাসক্রাইবার বাডা়তে সাহায্য করবে৷ এর ফলে দ্রুত আপনি ইউটিউব পার্টনার প্রোগামটির সঙ্গে যুক্ত হতে পারবেন৷ সেখান থেকেই বিজ্ঞাপন পাবেন এবং সেটিই আপনার আয় বাড়াতে সাহায্য করবে৷
ইতিমধ্যেই আপনার চ্যানেলটি যদি প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায়৷ তবে, আপনি যুক্ত হতে পারেন অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে৷ যদি চ্যানেলটি খাবার সংক্রান্ত হয় তবে বিভিন্ন রেস্ট্রোরেন্টের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিজ্ঞাপন নিতে পারেন৷ এক্ষেত্রে বিজ্ঞাপনের মূল্য চ্যানেলটির সাবসক্রাইাবেরর উপর নির্ভর করবে৷
কেস স্টাডি
শুরুতেই গুগলে অ্যাডসেন্স থেকে আসা আয় ধরা যাক। প্রতি এক হাজার ভিউয়ের জন্য গুগল থেকে আসে এক থেকে দেড় ডলার। যদি ১০ মিলিয়ন ভিউ হিসাব করেন তবে আয় দাঁড়ায় ১০ হাজার মার্কিন ডলার। তাহলে এরকম এক তারকার রাতারাতি আয় একবার ভেবেই দেখুন।
ভুবন ভাম বা বিবিকিভাইনস নামের একটি ইউটিউব অ্যাকাউন্ট তৈরি করেন। ভারতীয় তারকাদের মধ্যে তার অ্যাকাউন্টটি ইউটিউব রিউইন্ডে ফিচার করা হয়। ওই অ্যাকাউন্টের ভিডিওর জন্য লাখো ভক্ত জোটে এবং ট্রেন্ড সেটার হন। কিন্তু ইউটিউবারদের ভাগ্য খারাপ। কিছুদিন পরেই ইউটিউব কিছু নিয়ম বদলে ফেলেছে। আগে কোনো রকম অ্যাকাউন্ট খুলে কাট-পিস ভিডিও দিয়েই অনেকে আয় করেছেন। ২০১৭ সালে পার্টনার প্রোগ্রামে পরিবর্তন আনে ইউটিউব।
ভিডিও নির্মাতাদের চ্যানেলের ভিউ যদি ১০ হাজার পার হয় তবেই চ্যানেল মানিটাইজ করার জন্য আবেদন করতে পারবে। নতুন চ্যানেল নির্মাতাদের এরপর রিভিউ প্রসেসের মধ্যে দিয়ে যেতে হবে। ইউটিউবের নিয়মনীতি মানা হয়েছে কিনা সব যাচাই বাছাই করা হবে। এ ছাড়া বিজ্ঞাপনের রেট কমে গেছে। প্রতি ব্যানার অ্যাডের ১০০০ ভিউয়ের জন্য এখন মাত্র ৮ সেন্ট করে দেয় গুগল। তবে রোল আউট অ্যাডের প্রতি ১০০০ ভিউয়ের জন্য পাঁচ থেকে ৮ ডলার পর্যন্ত পাওয়া যায়। এখনকার সত্যিকারের ইউটিউবারদের জন্য এটাই এখন সুযোগ। নিজের ভিডিও ব্লগ বা ভ্লগ তৈরি করে তাতে দর্শক টানতে পারলেই বিশাল ইনকাম।

Tuesday, August 14, 2018

Youtube Income ইউটিউব চ্যানেলে আয় কত? আসুন আজকে সব রহস্য জানি ( Ma Studio Sandwip )

Youtube Income ইউটিউব চ্যানেলে আয় কত? আসুন আজকে সব রহস্য জানি ( Ma Studio Sandwip )



গান, নাটক, চলচ্চিত্র, টিভি অনুষ্ঠান থেকে শুরু করে এমন কোনো কনটেন্ট নেই যে আমরা ইউটিউবে দেখতে পাই না। বিনোদনের প্রধান মাধ্যম এখন ইউটিউব। টেলিভিশনের জন্য নয়, শুধু ইউটিউবকে কেন্দ্র করেও নির্মিত হচ্ছে বিভিন্ন অনুষ্ঠান। বিভিন্ন প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরাও খুলছেন ইউটিউব চ্যানেল। সর্বোপরি বাংলাদেশের বিনোদন জগৎ এখন অনেকটাই ইউটিউবকেন্দ্রিক হয়ে পড়েছে। সংগীতাঙ্গনের এখন প্রায় শতভাগ বিনিয়োগই ইউটিউবকে ঘিরে। প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের যেমন ইউটিউব চ্যানেল আছে, তেমনি অনেক কণ্ঠশিল্পীরই নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেল রয়েছে। শুধু মিউজিক কোম্পানি কেন, বর্তমানে দেশের প্রতিটি টিভি চ্যানেলেরও রয়েছে আলাদা ইউটিউব চ্যানেল। আর শুধু ইউটিউবকে কেন্দ্র করে খুব কম সময়ের ব্যবধানে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে প্রায় ডজনখানেক মানসম্পন্ন মিউজিক চ্যানেল। এ ছাড়া ব্যক্তিপর্যায়ে রয়েছে অগণিত চ্যানেল। ইদানীং অনেক উঠতি নায়ক-নায়িকা, গায়ক-গায়িকা ইউটিউব চ্যানেলকেন্দ্রিক কাজ করতে বেশি আগ্রহী। কিন্তু কেন? ইউটিউবের ব্যবসাটা আসলে কোথায়?

মুখে মুখে প্রচলিত আছে, কোনো গান, নাটক বা সিনেমা কিংবা যে কোনো কনটেন্ট ইউটিউবে এক কোটিবার দর্শক দেখলে ওই চ্যানেল মালিক ছয় লাখ টাকা পাবেন ইউটিউব কোম্পানি থেকে। কেউ কেউ বলেন, লাখ ভিউতে ২৩শ টাকা পাওয়া যায়। কোটি ভিউতে কোনো কোনো ক্ষেত্রে ২০-৫০ হাজারও পাওয়া যেতে পারে। আবার ৫-১০ লাখ টাকাও পাওয়া যেতে পারে। বিষয়টি সম্পূর্ণই নির্ভর করছে ওই ভিডিওটি কোন মহাদেশের দর্শক বেশিবার দেখেছে তার ওপর। যিনি চ্যানেলের মালিক তিনি প্রতিদিনই তার রেভিনিউর পরিমাণ সহজেই দেখতে পারেন। ইউটিউবের ড্যাশবোর্ড প্রতিদিনই প্রতিটি চ্যানেলে রেভিনিউ হিসাব করে সেটির আপডেট দিয়ে দিচ্ছে।


খুবই মজার বিষয় হলো, সারা বিশ্বে ইউটিউবের হাজার কোটি চ্যানেলেকে কন্ট্রোল করছে একটি রোবট। শুধু কন্ট্রোল নয়, চুরি করে অন্য কারো গান, নাটক বা সিনেমা হঠাৎ করে আরেকটি চ্যানেলে প্রচার হচ্ছে কিনা, সেটিও বিচার করছে এই রোবট এবং ক্লেম (অভিযোগ) করে ভিডিওটির রেভিনিউ ছিনিয়ে আঞ্ছে আসল মালিকের কাছে কিংবা ডিলিট করে দিচ্ছে মালিকের নিরদেশনা অনুযায়ী। এভাবে ওই রোবটের মাধ্যমে তিন মাসে কোনো একটি চ্যানেল যদি তিনবার ক্লেমের আওতায় পড়ে, তা হলে ওই চ্যানেল অটো বন্ধ করে দেওয়া হয়।

ইউটিউব মূলত আমেরিকান কোম্পানি। তবে যে কেউ ইচ্ছে করলেই কয়েক মিনিটের ব্যবধানে একটি ইউটিউব চ্যানেল খুলতে পারেন। কিন্তু আপনার রেগুলার চ্যানেলে আপনি কন্টেন্ট আইডি সুবিধা পাবেন না। সে ক্ষেত্রে আপনাকে শরণাপন্ন হতে হবে কোনো না কোনো এমসিএনের (মাল্টি চ্যানেল নেটওয়ার্ক)। বাংলাদেশে এখন ৮-৯টি এমসিএন প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যারা বেশ ব্যস্ত সময় পার করছে এবং সুনামের সঙ্গে কাজ করছে। এ রকমই একটি প্রতিষ্ঠান লাইকা নেটওয়ার্ক। লাইকা নেটওয়ার্ক মুলত লন্ডন ভিত্তিক এমসি এন প্রতিষ্ঠান যাদের ৫৩ টি দেশে কার্যক্রম চালু আছে। লাইকা নেটওয়ার্কের বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী রায়হান শরীফ বলেন, ‘যে কেউ চ্যানেল খুলতে চাইলেই আমরা তাকে সহযোগিতা করি এবং সে তার চ্যানেলে যে কোনো কনটেন্ট আপলোড নিজেই করতে পারবেন। কনটেন্ট ক্লেমের ক্ষেত্রেও আমরা পরামর্শ দিয়ে থাকি। সবচেয়ে বড় কথা, একটি চ্যানেল খুললেই কিন্তু লাখ লাখ ভিউ পাওয়া যায় না। এর জন্য প্রয়োজন ভাল কন্টেন্ট, প্রমোশন আর সাবস্ক্রাইবার বাড়ানো। এ বিষয়গুলোয় আমরা সহযোগিতা করি।’ এতে করে আপনাদের লাভ কী? এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘যার সঙ্গে আমাদের চুক্তি হবে চ্যানেলের বিষয়ে ওই চুক্তিতেই উল্লেখ থাকবে রেভিনিউর ২০ ভাগ আমরা পাব। অর্থাৎ কোনো চ্যানেল ১০০ ডলার ইউটিউব থেকে পেলে আমরা নেব ২০ ডলার, চ্যানেল মালিক পাবেন ৮০ ডলার।’

ডলার তো আপনাদের অ্যাকাউন্টে জমা হবে, সে ক্ষেত্রে স্বচ্ছতার প্রশ্ন আসতে পারে। রায়হান শরিফ জানান, এ ব্যবসাটির রেভিনিউতে পূর্ণ স্বচ্ছতা রয়েছে। যিনি চ্যানেল মালিক, তিনি প্রতিদিনই তার রেভিনিউ ইউটিউবেই সরাসরি দেখতে পাবেন।

সময়ের আরেকটি আলোচিত এমসিএন প্রতিষ্ঠান কাইনেটিক মিউজিক। কাইনেটিক মিউজিকের মুখপাত্র সংগীতশিল্পী জুয়েল মোর্শেদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, মালিকদের কাছ থেকে রেভিনিউর ৩০ ভাগ আমরা নিচ্ছি। এটি আসলে প্রতিষ্ঠান হিসেবে নির্ভর করে থাকে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে কমবেশিও হতে পারে। গান প্রসঙ্গে জুয়েল মোর্শেদ বলেন, ‘গানের রেভিনিউ অন্য কনটেন্টের তুলনায় একটু কমই আসে। কারণ ৩-৪ মিনিটের গানে বিজ্ঞাপন শো একবারই করে। সে ক্ষেত্রে কনটেন্ট যদি ১০ মিনিটের ওপরে হতো তা হলে বিজ্ঞাপন শো কয়েক বার হতো। সে ক্ষেত্রে রেভিনিউয়ের পরিমাণও বাড়ত।’

বর্তমানে বাংলাদেশে ইউটিউব চ্যানেলগুলোর মধ্যে অনেক চ্যানেলই প্রতিমাসে ৫০ হাজার থেকে ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত পাচ্ছে। শিল্পীদের মধ্যে যাদের নিজস্ব চ্যানেল রয়েছে, তারা প্রতিমাসে কমপক্ষে ২৫ হাজার থেকে প্রায় দুই লাখ টাকা পাচ্ছেন। আর মিউজিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানই বেশ সম্মানজনক অঙ্কের টাকা আয় করছে। জানা গেছে, এর পরিমাণ এক লাখ থেকে ১২-১৩ লাখ টাকা পর্যন্ত। বর্তমানে যেসব প্রতিষ্ঠান সর্বোচ্চ রেভিনিউ পাচ্ছে ইউটিউব থেকে তাদের মধ্যে রয়েছে সিডি চয়েস, ধ্রুব মিউজিক স্টেশন, সংগীতা, জি-সিরিজ প্রমুখ প্রতিষ্ঠান।

বাংলাদেশে এখন এমন কিছু ইউটিউব চ্যানেল রয়েছে যেগুলো উল্লিখিত চ্যানেলগুলোর চেয়েও কিছু কিছু ক্ষেত্রে অনেক বেশি অর্থ উপাজর্ন করছে। কিন্তু সেসব চ্যানেল আসলে অশ্লীলতা বা তথাকথিত কিছু বিতর্কিত কনটেন্টে ভরপুর। আবার কিছু গুঞ্জন বা গসিফনির্ভর চ্যানেল রয়েছে, যেগুলো তাদের মনগড়া তারকা সংবাদের অডিও দিয়ে তারকাদের ছবি ব্যবহার করে ইউটিউবে আপলোড করে অর্থ কামাচ্ছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক অভিনেত্রী বলেন, ‘আমি এ পর্যন্ত ২০টি নাটকে অভিনয় করেছি। কিছু কিছু নাটকে বেশ বড় চরিত্রেই কাজ করেছি। কিন্তু কেউ আমাকে চেনে না। খোদ আমার অনেক আত্মীয়স্বজনই প্রশ্ন করেন, নাটকে কাজ করছিস কোনো দিন তো দেখলাম না টিভিতে? আসলে এত চ্যানেলের ভিড়ে কোন নাটক কোন চরিত্র কখন চলে যাচ্ছে দেখার কেউ নেই। সে দিক দিয়ে ইউটিউবকেন্দ্রিক চ্যানেলে কাজ করলে চাইলেই দেখাতে পারব আমার কাজ। লাখ লাখ দর্শক আমাকে ইউটিউবে দেখছে এটিই তো প্রশান্তি।’

সংগীতশিল্পী আসিফ আকবরের ইউটিউব চ্যানেল ‘আসিফ’-এর সাবস্ক্রাইবার এক লাখ পার করেছে (১ লাখ ২৪ হাজার ২৫৯)। ইউটিউব প্রসঙ্গে আসিফ আকবর বলেন, ‘এক সময় আমি নিজে ইউটিউব নিয়ে ভাবিনি। সময় আমাকে এসব নিয়ে ভাবতে বাধ্য করেছে। নিজের ইউটিউব চ্যানেল প্রকাশ করি। গান গাওয়া নিয়ে যে অলসতা ভর করেছিল অর্ধযুগ আগে, সেই অলসতা এখন হাজার মাইল দূরে অবস্থান করছে। এখন গান আর শুটিংয়ে নিজেকে এমনভাবে বদলে নিয়েছি যে, মনে হয় নতুন করে ক্যারিয়ারে সংগ্রাম করছি। আগামী যুগে যদি দেখি কোনো টিভি চ্যানেলই নেই, তা হলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। কেননা টিভি চ্যানেলও সব ধীরে ধীরে ইউটিউবকেন্দ্রিক হয়ে যাচ্ছে।’