Showing posts with label Mobile. Show all posts
Showing posts with label Mobile. Show all posts

Friday, August 31, 2018

অ্যান্ড্রয়েড ফোনে এয়ারপ্লেন মোড কেন থাকে : যা জানা খুবই জরুরী

অ্যান্ড্রয়েড ফোনে এয়ারপ্লেন মোড কেন থাকে : যা জানা খুবই জরুরী

অ্যান্ড্রয়েডের এয়ারপ্লেন মোড কি?
এয়ারপ্লেন মোড হচ্ছে একটি সেটিংস যা প্রায় সকল স্মার্টফোন, ল্যাপটপ এবং অনুরূপ ডিভাইসগুলোতে থাকে। আপনি যখন এটি অ্যাকটিভ করবেন তখন এয়ারপ্লেন মোড আপনার ফোনের সব ধরনের সিগন্যাল পাঠানো বন্ধ রাখবে। এই মোড চালু থাকা অবস্থায় ফোনের স্ট্যাটাস বারে একটি বিমান আইকন দেখতে পাবেন।
এয়ারপ্লেন মোডের কাজ কী?
এয়ারপ্লেন মোড আপনার ফোনের সব ধরনের ওয়্যারলেস ফাংশন নিষ্ক্রিয় রাখে। যার মধ্যে রয়েছে-
* ব্লুটুথ : ব্লুটুথ হচ্ছে খুব সীমিত রেঞ্জের সংযোগ, যা আপনার ফোনকে স্পিকার, হেডফোন এবং আরো কিছুর সঙ্গে সংযুক্ত হওয়ার সুবিধা দেয়। এয়ারপ্লেন মোড এটিকে নিষ্ক্রিয় রাখে।
* মোবাইল সংযোগ: আপনি কল করতে পারবেন না, টেক্সট মেসেজ পাঠাতে পারবেন না বা ইন্টারনেট ব্যবহারের জন্য মোবাইল ডেটা ব্যবহার করতে পারবেন না।
* ওয়াই-ফাই : আপনার ফোনো বিদ্যমান থাকা সব ধরনের ওয়াই-ফাই সংযোগগুলো নিষ্ক্রিয় হবে এবং কোনো নতুন ওয়াই-ফাই সংযোগের সঙ্গে যুক্ত হবে না।
এয়ারপ্লেন মোডে ওয়াই-ফাই ব্যবহার করা যায়?
উত্তরটা নির্ভর করে আপনার ডিভাইসের ওপর। তবে বেশিরভাগ আধুনিক ফোনগুলো ওয়াই-ফাই ব্যবহারের সুবিধা দেয়, ফোন এয়ারপ্লেন মোডে থাকা সত্ত্বেও। আপনি যখন এয়ারপ্লেন মোড চালু করবেন তখন স্বয়ংক্রিয়ভাবে ওয়াই-ফাই বন্ধ হয়ে যাবে। কিন্তু আপনি ম্যানুয়ালি আবার ওয়াই-ফাই চালু করতে পারবেন।
এয়ারপ্লেন মোড চালু থাকা অবস্থায় কুইক সেটিংস থেকে ওয়াই-ফাই অপশনে ক্লিক করুন। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে অন হয়ে যাবে ওয়াই-ফাই এবং কানেক্ট হবে যদি আপনার ফোন অনুমতি দেয়।
এয়ারপ্লেন মোড ব্যাটারি সাশ্রয় করে?
হ্যাঁ, এয়ারপ্লেন মোড স্পষ্টভাবে আপনার ডিভাইসের ব্যাটারি লাইফ রক্ষায় সাহায্য করে। বিভিন্ন রেডিও তরঙ্গের কার্যক্রমে ফোনের অনেক শক্তির প্রয়োজন হয় যেমন ওয়াই-ফাইয়ের মাধ্যমে বিভিন্ন অ্যাপসের নোটিফিকেশন, ব্লুটুথ ডিভাইসগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ, মোবাইল টাওয়ারের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা, লোকেশন চেক করা প্রভৃতি। এসব কাজ ফোনের ব্যাটারি শক্তি শেষ করে, এয়ারপ্লেন মোড একসঙ্গে সবকিছু নিস্ক্রিয় করে দেওয়ায় ফোনের ব্যাটারি শক্তি দারুন ভাবে সাশ্রয় হয়। যেহেতু এয়ারপ্লেন মোডে আপনার ফোন বেশি কাজে ব্যস্ত থাকে না তাই এই মোডে ফোন চার্জও হতে পারে দ্রুত।
অনেক বিমানেই এখন ইন ফ্লাইট ওয়াই-ফাই সেবা বিদ্যমান, সুতরাং আপনি এই ফিচারটি চালু করে উপভোগ করতে পারেন। নিশ্চিত না হয়ে থাকলে, ওয়াই-ফাই কানেক্ট করার আগে বিমানকর্মীর কাছ থেকে জেনে নিন। বিমানে শুধুমাত্র দশ হাজার ফুট ওপরে ওয়াই-ফাই ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়। তাই বিমান টেকঅফ এবং ল্যান্ডিংয়ের সময় ওয়াই-ফাই বন্ধ রাখার ব্যাপারে সচেতন থাকুন। এমনকি অবতরণের পরও।
গেম খেলায় এয়ারপ্লেন মোড কিভাবে সাহায্য করে?
আপনি যদি ফোনে গেম খেলতে পছন্দ করেন কিন্তু বিজ্ঞাপনে বিরক্তবোধ করেন তাহলে এয়ারপ্লেন মোড সাহায্য করতে পারে। কারণ এটি ইন্টারনেট সংযোগ নিষ্ক্রিয় করে, তাই এয়ারপ্লেন মোডে গেম খেলার সময় বিজ্ঞাপন প্রদর্শন হবে না। যাহোক, যে গেমগুলো সবসময় অনলাইনে খেলা লাগে সেগুলোর ক্ষেত্রে এটি কার্যকর হবে না। সুতরাং আপনি আপনার পছন্দের কোনো অফলাইন গেম এয়ারপ্লেন মোডে খেলতে পারেন।
এয়ারপ্লেন মোডে ব্লুটুথ কাজ করে?
ওয়াই-ফাই এবং ব্লুটুথের ঘটনা একই। এয়ারপ্লেন মোড চালু করার পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্লুটুথ নিষ্ক্রিয় হয়ে গেলেও, বেশিরভাগে ফোনে ম্যানুয়ালি আবার ব্লুটুথ চালু করা যায়। বিমান সংস্থাগুলো ব্লুটুথের ব্যাপারে খুব বেশি উদ্বিগ্ন নন, কারণ এর রেঞ্জ খুব সীমিত।
ব্লুটুথ চালু করে ব্লুটুথ সুবিধার হেডফোন, কিবোর্ড এবং অনুরূপ ডিভাইসগুলো স্মার্টফোনে সংযুক্ত করতে পারবেন। এমনকি যখন আপনি বিমান ভ্রমণ করছেন না, তখন এয়ারপ্লেন মোডে ব্লুটুথ হেডফোনের মাধ্যমে অফলাইন মিউজিক উপভোগ করে ব্যাটারি সাশ্রয় করতে পারেন।
এয়ারপ্লেন মোডে ডাটা ব্যবহার করা যায়?
না। কারণ এয়ারপ্লেন মোড আপনার ফোনকে মোবাইল নেওয়ার্ক টাওয়ারের সঙ্গে সংযুক্ত হতে বাধা দেয়। তাই এই মোডে কোনো ধরনের ডাটা ব্যবহার করতে পারবেন না।
এয়ারপ্লেন মোডে ফোনে কল কিংবা মেসেজ আসবে?
না, কারণ এয়ারপ্লেন মোডে মোবাইল কানেকশন বন্ধ হয়ে যায়। আপনার ফোন এয়ারপ্লেন মোডে থাকা অবস্থায় কেউ যদি আপনাকে ফোন করে তাহলে ফোন বন্ধ রয়েছে শোনাবে। আর সেসময়ের টেক্সট মেসেজ আসবে এয়ারপ্লেন মোড অফ করার পরপরই।
এয়ারপ্লেন মোডে ফোনের অ্যালার্ম কাজ করে?
হ্যাঁ। অ্যালার্ম স্বাভাবিক থাকবে এয়ারপ্লেন মোডেও। অ্যালার্ম ইন্টারনেট কানেকশনের ওপর নির্ভর করে না। অ্যালার্ম অ্যাপ অন করে নিশ্চিতে অ্যালার্ম সেট করুন। এয়ারপ্লেন মোডে যদিও ইন্টারনেট ব্যবহার করা যায় না, তবে ভয়েস কমান্ডের মাধ্যমে গুগল অ্যাসিস্ট্যান্ট আপনার জন্য অ্যালার্ম সেট করতে পারে।
মিউজিক যেভাবে উপভোগ করবেন এয়ারপ্লেন মোডে
এয়ারপ্লেন মোডে ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় গুগল প্লে মিউজিক, স্পোটিফাইয়ের মতো মিউজিক স্ট্রিমিং অ্যাপগুলো কাজ করবে না। এয়ারপ্লেন মোডে মিউজিক উপভোগে দুইটি অপশন রয়েছে-
প্রথমত যদি আপনি মিউজিক স্ট্রিমিংয়ের পেইড সার্ভিস ব্যবহার করে থাকেন যেমন স্পোটিফাই প্রিমিয়াম অথবা গুগল প্লে মিউজক অল অ্যাকসেস, তাহলে আপনি ডিভাইসে মিউজিক ডাউনলোড করে নিতে পারেন। এমনকি এয়ারপ্লেন মোডেও তা শোনার সুবিধা পাবেন।

Wednesday, August 29, 2018

মোবাইলের ভবিষ্যৎ নিয়ে যা বলেছিলেন স্টিভ জবস

মোবাইলের ভবিষ্যৎ নিয়ে যা বলেছিলেন স্টিভ জবস

অ্যাপলের সহ-প্রতিষ্ঠাতা স্টিভ জবস। তিনি প্রথম আইফোন উন্মুক্ত করার পর যে ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন, তা সত্য হয়েছে।
২৫ জুলাই, বুধবার দ্য ইনফরম্যাশন এবং ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল যৌথভাবে স্টিভ জবসের ২০০৮ সালে নিক উইংফিল্ডকে দেওয়া এক অডিও সাক্ষাৎকার প্রকাশ করেছে।
ওই সাক্ষাৎকারে স্টিভ জবস বলেছিলেন, ‘আমিসহ অনেকেই বিশ্বাস করেন, মোবাইল অতি প্রয়োজনীয় জিনিস হয়ে উঠবে। কারণ এটি দিয়ে অনেক কিছুই করা যাবে। এজন্য সব সময় মোবাইল সাথেই রাখতে চাইবে মানুষ।
মোবাইলে এমন সব পরিষেবা পাওয়া যাবে, যা ডেস্কটপে প্রাসঙ্গিক নয়। যেমন অবস্থান-ভিত্তিক পরিষেবাগুলো, যা আপনার অ্যাপ্লিকেশনে সমন্বিত থাকবে। আমি মনে করি, এটি বিশাল কিছু হতে যাচ্ছে।’
ভবিষ্যতের অ্যাপ স্টোর নিয়েও ভবিষ্যদ্বাণী সত্যি হয়েছে স্টিভ জবসের। তিনি বলেছিলেন, ‘কে জানে? সম্ভবত এটি একটি বিলিয়ন ডলারের বাজারে পরিণত হবে একসময়।’
একটি সম্পূর্ণ নতুন বিলিয়ন ডলারের বাজার খুলেছে অ্যাপ স্টোর, যা প্রথম ৩০ দিনেই ৩৬০ মিলিয়ন ডলার হয়েছে। চলতি বছর অ্যাপ স্টোরের ১০ বছর পূর্তি হয়েছে। আর বর্তমান অ্যাপ স্টোরের ব্যবহারকারী সাপ্তাহে ৫০ কোটি, যারা ডেভলপারদের ১০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি আয়ে সহযোগিতা করে থাকে।
বিশ্বের প্রথম ফাইভ-জি ফোন দেখে নিন

বিশ্বের প্রথম ফাইভ-জি ফোন দেখে নিন

বিশ্বের প্রথম ফাইভ-জি ফোন নিয়ে আসছে চীনের প্রযুক্তিপণ্য নির্মাতা প্রতিষ্ঠান লেনোভো। প্রতিষ্ঠানটির ভাইস প্রেসিডেন্ট চ্যাং চেং দাবি করছেন তারাই বিশ্বের প্রথম ফাইভ জি ফোন বাজারে নিয়ে আসবে। চীনের এক মাইক্রোব্লগিং ওয়েবসাইটে এই দাবি করেছেন তিনি।
যদিও এর আগে সোশাল মিডিয়ায় মিথ্যা খবর প্রচারের অনেক অভিযোগ রয়েছে চ্যাং এর বিরুদ্ধে। লেনোভো জেড ফাইভ লঞ্চের আগে তিনি সোশাল মিডিয়ায় যে সব দাবি করেছিলেন তার কোনটাই এখনও সঠিক হয়নি। তাই বিশেষজ্ঞরা এই দাবিকে খুব একটা গুরুত্ব দিতে নারাজ। প্রসঙ্গত স্ন্যাপড্রাগন চিপসেট ব্যবহার করে ইতিমধ্যেই একাধিক স্মার্টফোন কোম্পানি ফাইভ জি ফোন বানানোর কাজ শুরু করে দিয়েছে।
এক প্রতিবেদনে জানা গিয়েছিল স্ন্যাপড্রাগন ৮৫৫ চিপসেট বানানোর কাজ শুরু করে দিয়েছে কোয়ালকম। এটি ফাইভ জি ফোনের জন্য বানানো হচ্ছে। এই খবর সত্যি হলে এই বছরের শেষেই বিশ্বের প্রথম ফাইভ জি ফোন লঞ্চ হবে বলে জানিয়েছেন টেক গুরুরা।
ফেসবুক ব্যবহারকারীদের কমার হার কত?

ফেসবুক ব্যবহারকারীদের কমার হার কত?

নতুন এক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে এখন ফেসবুক। সেটা হল তরুণদের ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ। তরুণেরা এখন চায় নতুনত্ব। ফেসবুক সে নতুনত্ব দিতে পারছে না। বরং অন্য প্ল্যাটফর্মের নকল করার অভিযোগ উঠছে। প্রযুক্তি যুগে তরুণদের ধরে রাখার মূল চ্যালেঞ্জ হল—নিত্য নতুন ফিচার চাই। নির্দিষ্ট সময় অন্তর প্রযুক্তি যদি নিজেকে নতুন ভাবে উপস্থাপন করতে না করতে পারে, ক্রমে সে হারিয়ে যাবে, এটাই নিয়তি। ফেসবুক কি সে পথেই হাঁটছে?
বিবিসি বলছে, ফেসবুকের প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গকে নিয়ে ‘দ্য সোশ্যাল নেটওয়ার্ক’ নামে ২০১০ সালে যে চলচ্চিত্র তৈরি হয়েছিল, সেখানে মার্ক জাকারবার্গের চরিত্রের একটি সংলাপ ছিল-“স্কুল-কলেজের ছাত্র-ছাত্রীরা অনলাইনে যায়, কারণ তাদের বন্ধুরা অনলাইনে। তাই একজন সরে পড়লে, অন্যরাও সরে পড়ে। ” ফেসবুকের ব্যাপারে ওই বাক্যই ধীরে ধীরে সত্য প্রমাণিত হচ্ছে। অন্তত যুক্তরাষ্ট্রে।
সামাজিক যোগাযোগের জন্য ১৩ থেকে ১৭ বছরের কিশোর তরুণদের মধ্যে ফেসবুক এখন আর সবচেয়ে জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্ম নয়। তালিকার প্রথম তিনটির মধ্যেও ফেসবুক এখন আর নেই। গবেষণা প্রতিষ্ঠান পিউ রিসার্চ সেন্টার বলছে, তরুণরা প্রচণ্ডভাবে ইউটিউবে ঝুঁকে পড়ছে। ৮৫ শতাংশই বলছে, তারা ইউটিউব ব্যবহার করে। তারপরই রয়েছে ইনস্টাগ্রাম এবং স্ন্যাপচ্যাট।
যুক্তরাষ্ট্রে কিশোর তরুণদের মধ্যে ফেসবুকের অবস্থান এখন চতুর্থ। ৫১ শতাংশ তরুণ-তরুণী এখনও ফেসবুক ব্যবহার করছে। কিন্তু ২০১৫ সাল থেকে ফেসবুক ২০ শতাংশ ব্যবহারকারী হারিয়েছে। তবে এখনও অপেক্ষাকৃত অসচ্ছল পরিবারের সন্তানদের কাছে ফেসবুকের আবেদন রয়েছে।
মার্কিন প্রযুক্তি বিশ্লেষকেরা বলছেন, মা-বাবা, দাদা-দাদিদের সংখ্যা ফেসবুকে বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রেই তরুণদের কাছে দ্রুত অজনপ্রিয় হয়ে উঠছে সামাজিক যোগাযোগের সাইটটি। তথ্য গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইমার্কেটার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায়। ইমার্কেটার বলছে, ফেসবুক ও ফেসবুকের মালিকানাধীন ইনস্টাগ্রামের তুলনায় স্ন্যাপচ্যাট এখন বেশি টানছে তরুণদের। তবে এখনো যুক্তরাষ্ট্রে ফেসবুক ব্যবহারকারী বাড়ছে। এর কারণ হচ্ছে, বয়স্ক ব্যক্তিরা ফেসবুক ব্যবহার করছেন বেশি। অথচ দীর্ঘ সময় ধরে ফেসবুকের মূল ব্যবহারকারী ছিলেন তরুণেরা। ইমার্কেটারের ওই প্রতিবেদনে তরুণদের আকর্ষণ ও ধরে রাখতে ফেসবুকের সমস্যার বিষয়টি উঠে এসেছে।
গবেষণা প্রতিষ্ঠানটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে এ বছর ১৮ থেকে ২৪ বছর বয়সীদের ফেসবুক ব্যবহার ৫ দশমিক ৮ শতাংশ কমবে। ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সীদের ক্ষেত্রেও ফেসবুক ব্যবহার কমতে দেখা যাবে। ২০১৯ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত এ ধারা অব্যাহত থাকবে। সব মিলিয়ে ২৫ বছরের কম বয়সী ২০ লাখ ব্যবহারকারী হারাবে ফেসবুক। এতে সুবিধা হবে স্ন্যাপচ্যাট ও ইনস্টাগ্রামের। ২০১৮ সালে স্ন্যাপচ্যাটে ১৯ লাখ ব্যবহারকারী বাড়বে। ইনস্টাগ্রামে বাড়বে ১৬ লাখ। বার্তা পাঠানোর পর তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে মুছে যাওয়ার প্ল্যাটফর্ম স্ন্যাপচ্যাটে ১২ থেকে ২৪ বছর বয়সীদের আগ্রহ ইনস্টাগ্রামের চেয়ে বেশি থাকবে। তবে সব বয়সী ব্যবহারকারীদের কাছে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে ফেসবুকের মতো সমস্যায় পড়তে হবে স্ন্যাপচ্যাটকে।
ইমার্কেটারের বিশ্লেষক ডেবরা আহো উইলিয়ামসন বলেন, স্ন্যাপচ্যাটের নকশা বদল করে ব্যবহার সহজ করা হচ্ছে। সব বয়সী ব্যবহারকারী বাড়াতে এ পদক্ষেপ নেওয়া হলে তরুণদের আগ্রহ ধরে রাখার সমস্যায় পড়তে হবে স্ন্যাপচ্যাটকে। ফেসবুক বর্তমানে এ সমস্যায় আছে। যুক্তরাষ্ট্রে ফেসবুক এখনো সবচেয়ে জনপ্রিয় সাইট। ১৬ কোটি ৯৫ লাখ ব্যবহারকারী রয়েছে সেখানে।
ইমার্কেটারের পূর্বাভাস অনুযায়ী, এ বছর ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারকারী দাঁড়াবে ১০ কোটি ৪৭ লাখ আর স্ন্যাপচ্যাট ব্যবহারকারী দাঁড়াবে ৮ কোটি ৬৫ লাখে। গত বছরে ইমার্কেটার পূর্বাভাস দিয়েছিল, এ বছর প্রথমবারের মতো তরুণদের মধ্যে ফেসবুক ব্যবহারকারী কমতে দেখা যাবে।
ফেসবুক ব্যবহারকারীদের আস্থা ধরে রাখতে পারবে কি না, এ প্রশ্ন অবশ্য উঠছিল বেশ কিছুদিন ধরেই। পিউ রিসার্চ সেন্টারের করা সমীক্ষা বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের তরুণদের ফেসবুক আর আকর্ষণ করছে না। এত দিন তরুণদের বড় একটি অংশ ফেসবুকে মেতে থাকলেও এখন তারা ইউটিউব, ইনস্টাগ্রাম, স্ন্যাপচ্যাটের মতো প্ল্যাটফর্মে ঝুঁকে পড়েছে। পিউয়ের সমীক্ষা অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের ১৩ থেকে ১৭ বছর বয়সী তরুণদের ৫১ শতাংশ ফেসবুক ব্যবহার করছে। সে তুলনায় ইউটিউব ব্যবহারকারীর হার ৮৫ আর ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারকারী ৭২ শতাংশ। ৬৯ শতাংশ ব্যবহার করছে স্ন্যাপচ্যাট। এর আগে ২০১৪-১৫ সালে পিউয়ের সমীক্ষায় দেখা গিয়েছিল ৭১ শতাংশ তরুণ ফেসবুক ব্যবহার করছে। ওই সময় তরুণদের কাছে জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ফেসবুক ছিল শীর্ষে।
পিউ রিসার্চের গবেষক মনিকা অ্যান্ডারসন বলেন, মাত্র তিন বছর আগে তরুণদের কাছে সামাজিক যোগাযোগের যে ক্ষেত্রটি অগ্রগণ্য ছিল, এখনকার পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। তরুণদের সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুক বাদেও অনেক ছড়িয়ে গেছে। তারা যেকোনো একটি প্ল্যাটফর্মে আটকে নেই। এখন তারা আগের চেয়ে বেশি ডিজিটাল উপায়ে সংযুক্ত। এবারের সমীক্ষায় দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের ৯৫ শতাংশ তরুণের স্মার্টফোন আছে এবং ৪৫ শতাংশ সব সময় অনলাইনে থাকে। ৩১ শতাংশের মত হচ্ছে, সামাজিক যোগাযোগের প্রভাব ইতিবাচক। ২৪ শতাংশ এর প্রভাব নেতিবাচক বলে মনে করছে।
প্রায় ২০০ কোটির বেশি ব্যবহারকারী নিয়ে বর্তমানে বিশ্বের বৃহত্তম সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইট ফেসবুক। কিন্তু কয়েকটি সমীক্ষা ও কয়েকজন বিশেষজ্ঞ বলছেন, স্ন্যাপচ্যাট ও ফেসবুকের মালিকানাধীন ইনস্টাগ্রামের উঠে আসার কারণে তরুণেরা ফেসবুকে আগ্রহ হারাচ্ছে। এর আগে ই-মার্কেটার নামের আরেক গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সমীক্ষায় একই রকম তথ্য উঠে এসেছিল।
এ ধরনের বিভিন্ন পরিসংখ্যান ফেসবুকের জন্য উদ্বেগের কারণ হতে পারে। গবেষণা প্রতিষ্ঠান জিবিএইচ ইনসাইটের ড্যানিয়েল আইভস্ বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে ফেসবুক নিয়ে যে জল্পনা চলছিল, সর্বশেষ গবেষণায় তা সত্য বলে প্রমাণিত হচ্ছে। ফেসবুকের মালিক মার্ক জাকারবার্গ বলছেন, ২০১৭ সালের শেষ তিন মাসে ফেসবুকে কাটানোর সময় ৫ কোটি ঘণ্টা কমেছে। তিনি বলেন, ভিডিওর সংখ্যা কমানোর ফলে এটি হয়েছে।
তরুণদের সামাজিকমাধ্যম ব্যবহারের প্রবণতা নিয়ে গবেষণা করছেন যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হুনজিন সো। কেন ফেসবুক ছেড়ে তরুণরা ইনস্টাগ্রাম এবং স্ন্যাপচ্যাটের দিকে ঝুঁকছে তার কতগুলো কারণ তিনি দিয়েছেন। ফেসবুকে বিভিন্ন বয়সীদের গতিবিধি, বিশেষ করে তাদের বাবা-মা এবং গুরুজনদের অবস্থানের কারণে অনেক তরুণ-তরুণী এই প্লাটফর্ম ছেড়ে চলে যাচ্ছে।
তবে তরুণদের মধ্যে গ্রহণযোগ্যতা হারালেও, সামগ্রিকভাবে এখনও ফেসবুক সবচেয়ে জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। ২০১৮ সালের প্রথম তিন মাসে নতুন চার কোটি ৮০ লাখ মানুষ প্রতিদিন ফেসবুকে ঢুকছে। এছাড়া তরুণদের অন্যতম জনপ্রিয় মাধ্যম ইনস্টাগ্রামের মালিকানাও ফেসবুকের হাতে।
তিন ভাঁজ করা যাবে স্যামসাং নতুন গ্যালাক্সি-এক্স

তিন ভাঁজ করা যাবে স্যামসাং নতুন গ্যালাক্সি-এক্স

তিন ভাঁজ করা নতুন সব বৈশিষ্ট্য নিয়ে বাজারে আসছে স্যামসাং গ্যালাক্সি এক্স। ২০১৮-র আগস্টেই লঞ্চ হতে পারে এই ফোনটি। গ্যালাক্সি-এক্স ফোনের মূল বিশেষত্ব হলো এটাতে থাকছে ৭.৫ ইঞ্চির ফুল এইচডি এলইডি স্ক্রিন। গ্যালাক্সি-এক্স এর স্ক্রিনটি ভাজ করা যাবে দুই থেকে তিনবার মুড়ে। একারণে ফোন ভাঁজ করে রাখা হলেও সম্পূর্ণ খোলার পর ভাঁজের জন্য কোনো রেখা বা দাগ আলাদা করে বোঝা যাবে না গ্যালাক্সি-এক্স Galaxy X-এ। ১ লাখ বার ভাঁজ করে রাখার পরও স্ক্রিন এবং বডি কোনো রকম ক্ষতিগ্রস্তও হবে না। গ্যালাক্সি-এক্স ফোনে র‍্যাম থাকবে ৬ জিবি। ফোনের ইন্টারনাল মেমোরি ১২৮ জিবি-র আশেপাশে রাখা হবে যা ২৫৬ জিবি পর্যন্ত বাড়ানো যাবে। বেশ কয়েকটি সূত্রের দাবি, কোয়াড কোর প্রসেসর সম্বলিত এই ফোনের সেলফি ক্যামেরা ৮ মেগাপিক্সেলের। উন্নত মানের রিয়ার ক্যামেরাটি ১৮ মেগা পিক্সেল।
এছাড়াও গ্যালাক্সি-এক্স ক্যামেরায় থাকছে একাধিক অত্যাধুনিক ফিচার। এছাড়া ৬০০০ mAh-এর ব্যাটারি থাকতে পারে এই ফোনে।
তবে নতুন পণ্য নিয়ে সদা সতর্ক স্যামসাং তাদের Samsung Galaxy X-এর স্পেসিফিকেশন সম্পর্কে সংস্থার পক্ষ থেকে এখনও কোনো নির্দিষ্ট তথ্য মেলেনি। ভারতে এই ফোনটির দাম ৩৯,৯৯০ টাকা হতে পারে মনে করা হচ্ছে।
২০১৮-র আগস্টে স্যামসাং গ্যালাক্সি এক্স লঞ্চ হতে পারে বলে কয়েকটি সূত্রে দাবি করা হয়েছে। আবার কিছু মিডিয়া রিপোর্টে বলা হয়েছে জানুয়ারি, ২০১৯ সাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে এ ফোনটি লঞ্চ হতে। তবে স্যামসাং এর পক্ষ থেকে এখনো এই বিষয়ে কিছুই জানানো হয়নি।
মোবাইল প্রসেসরের ইতি বৃত্তান্ত | আপনি কোন প্রসেসরটি নির্বাচন করবেন?

মোবাইল প্রসেসরের ইতি বৃত্তান্ত | আপনি কোন প্রসেসরটি নির্বাচন করবেন?

মোবাইল প্রসেসর মূলত চারটি বড় কোম্পানি বানায়। কোয়ালকম, মিডিয়াটেক, স্যামসাং এবং এনভিডিয়া। এখন এই চার কোম্পানিকে প্রসেসর বানাতে যে নকশার প্রয়োজন পড়ে অর্থাৎ আর্কিটেকচার এর প্রয়োজন পড়ে, তা আর্ম নামক একটি কোম্পানি লাইসেন্স এর সাথে সরবরাহ করে থাকে। আপনি যখনই একটি নতুন ফোন কেনার চিন্তা করেন তখনই আপনার মনে অবশ্যই ৩ টি বিশেষ চিন্তা আসে। একটি হলো আপনার ফোনটি ল্যাগ করবে কিনা? দ্বিতীয়ত ফোনটি কতটা গরম হতে পারে? এবং তৃতীয়ত ফোনটির ব্যাটারি লাইফটা ভালো হবে কি না? এবং টেকনিক্যালি এই তিনটি কথাই কোথাও না কোথাও যুক্ত থাকে ফোনটির প্রসেসরের সাথে। তাছাড়া আপনি যখনই দুইটি বা তিনটি ফোনের মধ্যে তুলনা করেন তখন দেখেন যে, ফোনটির প্রসেসর ডুয়ালকোর? না কোয়াডকোর প্রসেসর? না অক্টাকোর। এবং এদের ফ্রিকুএন্সি কার কত বেশি! আর আমাদের মানুষ জাতির তো একটা মূল মন্ত্র আছেই যে বেশি নাম্বার মানে বেশি ভালো জিনিস। তাই তো আমরা সর্বদা ভেবে দেখি যে অক্টাকোর প্রসেসর কোয়াডকোর প্রসেসর থেকে বেশি ভালো এবং ২ গিগাহার্জ ফ্রিকুএন্সি ১.৫ গিগাহার্জ ফ্রিকুএন্সি থেকে ভালো। আর এই মূলমন্ত্রের সাথে চিপকে লেগে থাকার জন্য জেনে বা অজান্তে আমরা ভুল করে থাকি এবং ভুল প্রসেসর নির্বাচন করে ফেলি।

যেকোনো প্রসেসরের মধ্যে তুলনা করার আগে ৪ টি বিষয়ের উপর বিশেষ খেয়াল রাখা প্রয়োজনীয়। এই বিষয় গুলো ছাড়া আপনি কখনোয় একটি প্রসেসর এর সাথে আরেকটির তুলনা করতে পারবেন না। শুধু কোয়াডকোর বা অক্টাকোর হওয়াতে কোন পার্থক্য হয় না। এছাড়াও অনেক বিষয় আছে এবং আমি আপনাদের সাথে তা নিয়ে এখন আলোচনা করবো।
১/ আর্কিটেকচার
সর্ব প্রথম বিষয়টি হলো প্রসেসরটির আর্কিটেকচার বা নকশা। আমি আগেই বলেছি প্রসেসর প্রস্তুতকারী কোম্পানিদের আর্ম নামক একটি কোম্পানি লাইসেন্স এর সাথে আর্কিটেকচার ডিজাইন সরবরাহ করে থাকে। এবং এই কোম্পানিটির আর্কিটেকচার ডিজাইন বছরের পর বছর ধরে উন্নত হতেই চলেছে। যেমন প্রথমে কর্টেক্স এ৫ ছিল তারপর এ৭, এ৯, এ১১, এ১৫, এ৫৩, এ৫৭, এ৫৯ ইত্যাদি। আপনি ভাবতে পারেন এগুলো কি এবং এগুলো দিয়ে কি হবে? দেখুন সহজ বাংলা ভাষায় বুঝতে নাম্বার যতো বেশি হবে ততো ভালো ডিজাইন আপনি দেখতে পাবেন। যেমন কর্টেক্স এ৫৭ এ৫৩ থেকে উন্নত অথবা কর্টেক্স এ১৫ এ৯ থেকে উন্নত। অর্থাৎ প্রসেসর শুধু কোয়াডকোর বা অক্টাকোর হলেই হবে না দেখতে হবে যে এই প্রসেসরে কোন আর্কিটেকচার ডিজাইন ব্যবহার করা হয়েছে।
২/ টেকনোলজি
দ্বিতীয়ত কথা আসে টেকনোলজির। অর্থাৎ সেই প্রসেসরটি বানাতে কোন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে তার। দেখুন একটি প্রসেসরে ছোটছোট লক্ষ লক্ষ কোটি কোটি ট্রানজেস্টর লাগানো থাকে। এখন একেকটি ট্রানজেস্টরের আকার যতো ছোট হবে, প্রসেসর ততো দ্রুত কাজ করতে সক্ষম হবে এবং তো বেশি ব্যাটারি সেভ করবে। এখানে কি হয়, প্রসেসর প্রস্তুতকারী কোম্পানিগন আর্ম থেকে যে আর্কিটেকচার ডিজাইন পায় তা নিজেদের ইচ্ছা মতো হিসেবে এবং টেকনোলজি অনুসারে ট্রানজেস্টর ছোট এবং বড় হিসেবে তৈরি করে। বর্তমানে স্যামসাং সেই হিসেবে প্রথম স্থানে রয়েছে। স্যামসাং তাদের নিজস্ব টেকনোলজি ব্যবহার করে সবচাইতে ছোট ট্রানজেস্টর বানিয়ে ফেলেছে। এবং এর সাইজ ১৪ ন্যানোমিটার। কোয়ালকম এর সাইজ ২০ ন্যানোমিটার, মিডিয়াটেক কখনো ২৬ কখনো ২৮ ন্যানোমিটার ট্রানজেস্টর তৈরি করে। তো আপনার প্রসেসরের ট্রানজেস্টর গুলোর সাইজ যতো ছোট হবে আপনি ততোবেশি কার্যক্ষমতা দেখতে পাবেন এবং আপনার প্রসেসরের স্পীড ততো বেশি হবে।
৩/ প্রসেসরের কোর সংখ্যা
তৃতীয়ত যে বিষয়টি এসে থাকে তা হলো নাম্বার অফ কোরস। অর্থাৎ প্রসেসরের কোর সংখ্যা। এখন এই কোর জিনিসটা কি? চলুন সহজ ভাষায় বুঝবার চেষ্টা করি কোর সম্পর্কে। মনে করুন আমি একটি প্রসেসর, এবং আমার দুইহাত হলো আমার দুইটি কোর। যেহেতু আমার কাছে দুটি কোর অর্থাৎ দুটি হাত আছে সুতরাং আমি দুইটি কাজ একসাথে করতে পারবো। এখন কোনো প্রসেসর যদি কোয়াডকোর হয় তবে এর মানে হলো এর কাছে চারটি হাত রয়েছে। চার হাত মানে একসাথে সে চারটি কাজ করতে পারবে। আরেকটি প্রসেসর হলো অক্টাকোর, অর্থাৎ এর ৮ টি হাত রয়েছে। অর্থাৎ সে ইচ্চামত আরামছে যেকোনো কাজ করতে পারবে। এখন ভেবে দেখুন যে একটি কাজ যদি আমি দুই হাতে করি এবং একই কাজ যদি ৮ হাতে করা হয় তবে সে কাজটি কত তাড়াতাড়ি সম্পূর্ণ হয়ে যাবে। অর্থাৎ কোর হলো প্রসেসরের একেকটি হাত। যা একসাথে মিলে বা আলাদা আলদা করে এক কাজকে অনেক সহজে অনেক দ্রুত সম্পূর্ণ করতে পারে। এবং এর ফলে প্রসেসর গরমও কম হয়। তো কোয়াডকোর এবং অক্টাকোর প্রসেসরের ক্ষেত্রে অক্টাকোর উত্তম হবে। কিন্তু অক্টাকোর তখনই উন্নত হবে যখন এর আর্কিটেকচার এবং বানানোর প্রযুক্তির সমান একতা থাকবে। যদি এই বিষয় গুলো আলদা আলাদা হয় তবে আপনি কখনই বলতে পারবেন না যে কোয়াডকোর বেশি ভালো না অক্টাকোর বেশি ভালো।
৪/ ফ্রিকুএন্সি (গিগাহার্জ)
দেখুন সর্বশেষে যে জিনিসটি আসে তা হলো গিগাহার্জ। অমুক প্রসেসর ২ গিগাহার্জ, তমুক প্রসেসর ১.৫ গিগাহার্জ। তো গিগাহার্জ এর মানে টা কি? দেখুন প্রত্যেকটি প্রসেসরের সাথে একটি ঘড়ি লাগানো থাকে। এবং সেই ক্লক বা ঘড়ির টাইমিং এর সাহায্যে প্রসেসর কাজ করে থাকে। এখন ১ গিগাহার্জ প্রসেসরের মানে হলো এই প্রসেসর ১ সেকেন্ডে ১০ কোটিবার কাজ করবে। এখন একটি কাজ করতে একটি প্রসেসরকে কত গুলো ওয়ার্ক সাইকেল ব্যবহার করতে হবে তা নির্ভর করে প্রসেসরটির উপর এবং কাজটির উপর। প্রসেসরের ১ বার কাজ করার সময়কে একটি ওয়ার্ক সাইকেল ধরা হয়।
আপনার কোন প্রসেসরটি নির্বাচন করা উচিৎ?
আসল কথা হলো আপনি যখনই কোন মোবাইল প্রসেসর কে তুলনা করতে যাবেন তখন চেক করে দেখুন এটি কোন আর্কিটেকচার ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে। আপনি হয়তো লেখা থাকা দেখতে পাবেন যে কর্টেক্স এ৫৩ অথবা এ৫৭। এবং খেয়াল করুন যতো বেশি নম্বর দেওয়া থাকবে ততো ভালো আর্কিটেকচার ডিজাইন হবে। এর পর চেক করে দেখুন প্রসেসরটি যে টেকনোলজি ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে সেটা কোন টেকনোলজির। সেটা ১৪ ন্যানোমিটার না ১৬ না ২০? এই সাইজ যতো কম হবে আপনার প্রসেসর ততো বেশি গতি সম্পূর্ণ হবে এবং পাওয়ার কম খরচ করবে। তৃতীয়ত খেয়াল করে দেখুন প্রসেসরটিতে নাম্বার অফ কোর কতটি আছে। কোর যতো বেশি হবে ততো ভালো কথা, কিন্তু এর সাথেসাথে টেকনোলজি এবং আর্কিটেকচারও উন্নত হওয়া প্রয়োজনীয়। মনে করুন একটি প্রসেসর তৈরি করা হয়েছে ২৮ ন্যানোমিটার টেকনোলজিতে এবং সেটিতে ২৫ কোর আছে 😛 এবং আরেকটি প্রসেসর তৈরি করা হয়েছে ১০ ন্যানোমিটার টেকনোলজিতে এবং সেটিতে ৮ কোর আছে 🙂 তবে ৮ কোর ওয়ালা প্রসেসর ২৫ কোরকে পিছে ফেলে আগে চলে যাবে।
চতুর্থ বিষয়টি হলো ফ্রিকুএন্সি, যা আপনি সচরাচর গিগাহার্জ এর রূপে দেখতে পান। এটিও যতো বেশি হবে ততো বেশি ভালো। কিন্তু পিছনের আলোচ্য তিনটি জিনিস সমান উন্নত হওয়া প্রয়োজন।
ভবিষ্যতের স্মার্টফোন গুলো আসলে কেমন হতে পারে? ২০৫০ সালের স্মার্টফোন!

ভবিষ্যতের স্মার্টফোন গুলো আসলে কেমন হতে পারে? ২০৫০ সালের স্মার্টফোন!

আজকে প্রযুক্তি কতোদ্রুত সামনের দিকে এগোচ্ছে এই ব্যাপারে বিশেষ করে বর্ণনা করার আর কিছু নেই। আমাদের প্রযুক্তিতে ক্রমবর্ধমান স্পীড দেখে মাঝে মাঝে মনে হয়, আমরা অলরেডি ফিউচারে বাস করছি। এই ব্লগে আমি পূর্বে অনেক টাইপের ফিউচার টেক নিয়ে আলোচনা করেছি, এর মধ্যে অনেক ফিউচার টেক বর্তমানে আমাদের কাছে লাইভ টেক কিন্তু আরো কিছু উন্নতি করার প্রয়োজন আছে। চিন্তা করে দেখুন আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স আর মেশিন লার্নিং এর কথা! বছর খানেক আগে এগুলো শুধু বিভিন্ন ওয়েবসাইটের মজাদার আর অকল্পনীয় আর্টিকেল হিসেবে শোভা বাড়িয়েছে। কিন্তু আজকে দেখুন, ধীরেধীরে প্রত্যেকটি বিষয়ে এই মেশিন লার্নিং আর আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স প্রবেশ করে নিচ্ছে—ফোনে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ব্যবহার করা হচ্ছে, ক্যামেরাতে ব্যবহার করা হচ্ছে, এমনকি ওয়েবসাইট গুলোতেও আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ব্যবহার করা হচ্ছে!

চিন্তা করে দেখুন ১৯৮০ সালের কথা, যখন পকেটে একটি ছোট সেলফোন, যেটা কল আর ম্যাসেজ রিসিভ করতে পারে, এমনটা হওয়া কোন সায়েন্স ফিকশন থেকে কম কিছু ছিল না। কিন্তু তারপরে চিন্তা করে দেখুন মাত্র দশ বছর পরে, ১৯৯০ সালের কথা, যখন সেলফোন ব্যবহার করে ওয়েব ব্রাউজ করা আরম্ভ হয়ে গিয়েছিলো। কিন্তু আজকের স্মার্টফোন গুলো কি না করতে পারে?—সুপার ফাস্ট ইন্টারনেট ব্রাউজ করতে পারে, যেকোনো টাইপের অ্যাপ্লিকেশন রান করাতে পারে, আপনি গেমিং করতে পারেন, দিন দিন স্মার্টফোন ক্যামেরা গুলো আরো এবং আরো উন্নতি প্রাপ্ত হচ্ছে, স্মার্টফোনের সাথে যুক্ত হয়েছে ডিজিটাল অ্যাসিস্ট্যান্ট যেটা ভয়েস কম্যান্ড নিয়ে কাজ করতে পারে, চিন্তা করে দেখেছেন, আপনি আপনার ফোনের সাথে কথা বলতে পাড়ছেন, যেটা কিনা শুধু মাত্র একটি ইলেকট্রনিক ডিভাইজ!
তো এই অবস্থায়, খুব ভাবতে ইচ্ছা করছে, ঠিক ভবিষ্যৎ স্মার্টফোন গুলো কেমন হতে পারে! দশ, বিশ, বা পঞ্চাশ বছর পরের স্মার্টফোন গুলোতে আমরা কি ধরণের পরিবর্তন লক্ষ্য করতে পারবো? হতে পারে এই আর্টিকেলে বর্ণিত অনেক ফিউচার স্মার্টফোন ফিচার একেবারেই শুনতে পাগলের মতো লাগতে পারে, কিন্তু এগুলো শুধু মাত্র আমার কল্পনা। এবং হ্যাঁ, অবশ্যই আপনার ক্রেজি আইডিয়া গুলোও আমরা জানতে চাই! তাই অবশ্যই নিচে কমেন্ট করে আপনার আইডিয়া গুলো সকলের সাথে শেয়ার করুণ!
ভবিষ্যৎ স্মার্টফোন
আমার মতে ভবিষ্যৎ স্মার্টফোন গুলোকে আর ফোনই বলা হবে না। স্মার্টফোন গুলোতে এতো শক্তিশালী ফিচার চলে আসবে, ফলে আর একে ফোন বলাটাই ঠিক হবে না, জাস্ট “কম্পিউটার” বলা হবে। আমি বিশ্বাস করি অদূরভবিষ্যতে সমস্ত কিছু কম্পিউটার নির্ভরশীল হয়ে পড়বে, ইন্টারনেট অফ থিংস ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়বে, স্মার্ট হোমের সবকিছু ইন্টারনেট দ্বারা কানেক্টেড থাকবে। শুধু আপনার স্মার্টফোন নয়, বাড়ির টিভি, ফ্রিজ, এসি, কতিপয় সেন্সর, স্মার্ট ওয়াসিং মেশিন, এমনকি দরজা পর্যন্ত ইন্টারনেটের সাথে যুক্ত থাকবে। আর আপনার ফোন হবে এগুলোর কন্ট্রোলিং ইন্টারফেস। কয়েক বছর পরে হয়তো আপনার চোখের সামনে কোন ফিজিক্যাল কম্পিউটার দেখতে পাবেন না, কিন্তু সমস্ত কিছু অবশ্যই কম্পিউটার নিয়ন্ত্রিত হবে। আর আপনার ফোনকে গেটওয়ে হিসেবে ব্যবহার করতে পারবেন, যেটা সমস্ত কিছু নিয়ন্ত্রন করবে।
ভবিষ্যৎ স্মার্টফোন
ভবিষ্যৎ স্মার্টফোন কেমন হবে, সেটা দুইভাবে ভাবা সম্ভব। প্রথমত, যদি প্রযুক্তির অসাধারণ উন্নতি লাভ করে, তাহলে স্মার্টফোন কোন ফিজিক্যাল ফোনই থাকবে না! আপনাকে ফোন করার জন্য কিছুই টাচ করতে হবে না, বা সেখানে কিছু দেখার জন্য কোন ডিসপ্লে থাকবে না, আর অবশ্যই শোনার জন্য কোন স্পীকারও থাকবে না। সমস্ত ফোন আর ব্রেইনে সরাসরি ইন্সটল থাকবে। যেহেতু এখানে আমরা ২০৫০ সালের কথা বলছি, সেহেতু ব্রেইন কম্পিউটার ইন্টারফেস টেকনোলজি ততোদিনে নিশ্চয় আমাদের মাঝে লাইভ হয়ে যাবে।
চিন্তা করে দেখুন, আপনার মস্তিষ্কের মধ্যে জাস্ট একটি চিপ ফিট করানো থাকতে পারে। অথবা আপনাকে জাস্ট ছোট্ট একটি হেডসেট প্রদান করতে হবে, যেটা আপনার মস্তিষ্ক থেকে সিগন্যাল গ্রহন করে কাজ করবে এবং উল্টা মস্তিষ্কে সিগন্যাল সেন্ড করবে। আপনি যদি কাওকে কল করতে চান, জাস্ট সেটার সম্পর্কে ভাবতে হবে, সিস্টেম থেকে স্বয়ংক্রিয় কল চলে যাবে এবং কলিং সাউন্ড কোন স্পীকারের মাধ্যমে আপনার কানে নয়, বরং মস্তিষ্কের মধ্যে সরাসরি সিগন্যাল সেন্ড করে আপনি তা শুনতে পাবেন। ভিডিও দেখার জন্য বা ভিডিও চ্যাট করার জন্য কোন স্ক্রীনের প্রয়োজন পড়বে না, লাইভ ভিডিও ফুটেজ সরাসরি আপনার মস্তিষ্কে সিগন্যাল সেন্ড করার মাধ্যমে আপনি তা দেখতে সক্ষম হবেন। এই চিন্তা গুলো আমার কল্পনা হলেও, এগুলো কিন্তু মোটেও অযৌক্তিক নয়! অলরেডি আমাদের কাছে এমন টেক মজুদ রয়েছে, যার মাধ্যমে মানুষের সমস্ত ব্রেইন ডাটা কম্পিউটারে আপলোড করা সম্ভব এবং কম্পিউটার থেকে আমার সেই ডাটা গুলো ব্রেইনে ডাউনলোড করানোও সম্ভব। অর্থাৎ ডিজিটাল ডাটা এবং মানুষের ব্রেইনকে একত্রে মিলিয়ে কিভাবে কাজ করতে হয়, তার প্রযুক্তি আমাদের কাছে রয়েছে।
মাইন্ড আপলোডিং বা অমরত্ব প্রযুক্তিকে বিজ্ঞানীরা দাবী করেছে, এটা ২০৪৫ সালের মধ্যে ব্যস্তব রুপ প্রদান করা সম্ভব হবে। যেহেতু এখানে আমরা কথা বলছি ২০৫০ সালের স্মার্টফোন নিয়ে, অবশ্যই স্মার্টফোনকে ভবিষ্যতে মানুষের মস্তিষ্কের সাথে সরাসরি কাজ করানোর জন্য উপযোগী করে তোলা সম্ভব হবে। যেকোনো ডিজিটাল ডাটা কনভার্ট করে সরাসরি হয়তো আপনার মস্তিষ্কেই সেভ করা হবে। স্মার্টফোন অ্যাপ্লিকেশন গুলো সরাসরি মস্তিষ্ক থেকে রান করানো সম্ভব হবে, আপনি সরাসরি ব্রেইন থেকে অ্যাপ্লিকেশন নিয়ন্ত্রন এবং ব্রেইন গেমিং করতে পারবেন।
ব্রেইন স্মার্টফোন
আপনি নিশ্চয় ভাবছেন কিভাবে সরাসরি মস্তিষ্কে ভিডিও সিগন্যাল সেন্ড করা সম্ভব! দেখুন, টেকনিক্যালি এটা সম্ভব, কেনোনা আমাদের মস্তিস্কই এই স্টাইলে কাজ করে। যখন আপনি চোখে কোন কিছু দেখেন, সেই দেখার উপর ভিত্তি করে চোখ থেকে মস্তিষ্কে একটি বিশেষ সিগন্যাল সেন্ড হয়, আর এই সিগন্যালের হুবহু সিগন্যাল তৈরি করা এবং মস্তিষ্কে সেন্ড করা সম্ভব। এর মাধ্যমে ক্যামেরা থেকে সিগন্যাল তৈরি করে মস্তিষ্কে সেন্ড করে অন্ধদের দৃষ্টিশক্তি প্রদান করা সম্ভব। যখন আপনি কোনকিছু দেখেন, আপনার চোখ সেখানে সামান্যই ভূমিকা পালন করে, বেশিরভাগ ভূমিকা থাকে আপনার মস্তিষ্কের। তো কেন কোন চিপ থেকে ভিডিও সিগন্যাল তৈরি করে আপনার মস্তিষ্কে সেন্ড করে সেই ভিডিওকে আপনার মস্তিষ্কে দেখানো যাবে না? অবশ্যই বুঝতে পারছেন, এটা কতোটা সম্ভাব্য বিষয় হতে পারে।
এখানে প্রশ্ন শুধু স্মার্টফোন আর ভিডিও, কলিং, বা কমিউনিকেশনের নয়। যদি এমন স্মার্টফোন তৈরি করা সম্ভব হয়, যেটি ব্রেইনের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হবে, তাহলে অবশ্যই প্রত্যেকটি জিনিষ মস্তিস্ক ব্যবহার করে নিয়ন্ত্রন করা সম্ভব হবে। আপনার ঘরের মাইক্রোওয়েভ ওভেন, ফ্রিজ, টিভি, ফ্যান, লাইট, আপনার কার, জিপিইএস ন্যাভিগেশন —সমস্তকিছু আপনার কল্পনার এবং অকল্পনীয়, প্রায় সবকিছুকে জাস্ট মস্তিকের সাহায্যে কম্যান্ড দিয়েই কাজ করানো যাবে।
যদি ভবিষ্যৎ স্মার্টফোন কোন ফিজিক্যাল ডিভাইজ হয়
যদি আমাদের উন্নতি এতোটা চরমে পৌছাতে না পারে, যদি স্মার্টফোন গুলো তখনো কোন ফিজিক্যাল ডিভাইজই হয়ে থাকে, তাহলে কল্পনাটা খুববেশি কঠিন কিছু হবে না। তবে এর মানে এও নয়, অসাধারণ কিছু দেখতে পাবো না! আজকের স্মার্টফোন গুলো কোনদিকে এগোচ্ছে তার দিকে লক্ষ্য করতে গেলে সামনের স্মার্টফোন গুলোতে একটি জিনিষ অবশ্যই ট্রেন্ড হতে চলেছে, তা হলো “জিরো ব্যাজেল ফোন“। আজকের ফোন গুলোতে অবশ্যই খেয়াল করে দেখেছেন আগের তুলনায় অনেক কম ব্যাজেল রাখা হচ্ছে। এলজি জি৬ বা স্যামসাং গালাক্সি এস ৮ ফোনের ব্যাজেল একেবারেই কম, কিন্তু সম্পূর্ণ ব্যাজেল মুক্ত নয়। তবে অবশ্যই কয়েক বছরের মধ্যে আমরা জিরো ব্যাজেল ফোন দেখতে সক্ষম হবো, হয়তো সামনের দিকে স্ক্রীন ছাড়া আর কিছুই অপ্রয়োজনীয়ভাবে জায়গা দখল করবে না।
অকল্পনীয় ব্যাটারি লাইফ
সামনের স্মার্টফোন গুলোতে সবচাইতে উল্লেখ্যযোগ্য পার্থক্য আসতে চলেছে, আর সেটা হচ্ছে ব্যাটারি লাইফ। হ্যাঁ, আজকের ফোন গুলো অনেক উন্নত কিন্তু ব্যাটারি লাইফ এতোটাও উন্নত নয়। এমন হলে কেমন হবে, যদি পুরো সপ্তাহ বা পুরো মাস ব্যাটারি ব্যাকআপ দেয় বিনা চার্জ করে! আবার চার্জ করার সময় হয়তো ২-৫ সেকেন্ড প্রয়োজনীয় হতে পারে। এখন আমাদের কাছে ফাস্ট চার্জিং টেকনোলজি রয়েছে, কিন্তু সামনের দশ থেকে বিশ বছরে হয়তো সুপার ক্যাপাসিটার স্মার্টফোনে যুক্ত হয়ে যাবে ফলে ৫ সেকেন্ডের বেশি সময় লাগবে না স্মার্টফোনকে চার্জ করতে। আজকের ব্যাটারি টেকনোলজি ব্যবহার করে ৭ দিন বা ৩০ দিন একটানা চার্জ ধরে রাখা সম্ভব নয়, কিন্তু সামনে আশা করা যায় সম্পূর্ণ নতুন ব্যাটারি টেকনোলজি আমাদের সামনে চলে আসবে।
ওয়্যারলেস চার্জিং
সাথে আমার যতোদূর মনে হয়, হেডফোন জ্যাক যেরকমভাবে ফোন থেকে সরিয়ে ফেলা হয়েছে, ভবিষ্যতে ফোন থেকে পাওয়ার জ্যাক বা চার্জিং পোর্টও সরিয়ে ফেলা হবে। হয়তো ওয়্যারলেস চার্জিং এতো উন্নতি প্রাপ্ত হবে, আরো অনেকবেশি রেঞ্জের মধ্যে ফোন চার্জিং করা সম্ভব হবে। হয়তো আপনি ঘরে ঢোকার সাথে সাথেই ফোনের চার্জিং শুরু হয়ে যাবে। আবার এমন ইলেকট্রনিক আবিষ্কার করাও হয়তো সম্ভব হতে পারে, যেটা চলতে বিদ্যুতের দরকারই নেই!
মোড়ানো স্ক্রীন
যদি কথা বলি ভবিষ্যৎ ফোনের স্ক্রীন টেকনোলজি নিয়ে তো অবশ্যই নতুন কোন প্রযুক্তি আসতে চলেছে যেটা অসাধারণ ডিসপ্লে কোয়ালিটি দিতে সক্ষম হবে। আজ থেকে দশ বা বিশ বছর পরে নয়, অবশ্যই কয়েক বছরের মধ্যেই প্রত্যেকটি ফোনে ওলেড স্ক্রীন ব্যবহার হওয়াটা একটি স্ট্যান্ডার্ড হিসেবে দাঁড়াবে। স্ক্রীনে প্রচণ্ড হাই রিফ্রেশ রেট থাকবে, হতে পারে ১০০০ হার্জ। আর হাই রিফ্রেশ রেট অর্জন করার জন্য অবশ্যই ওলেড স্ক্রীন প্রয়োজন পড়বে, কেনোনা ওলেড হাই রিফ্রেশ রেট অর্জন করার জন্য বিশেষভাবে প্রস্তুত!
সাথে ফোন গুলোর সাথে মোড়ানো ডিসপ্লে ফিচার থাকতে পারে। স্বাভাবিক ভাবে হয়তো ফোনটির ডিসপ্লে কয়েকটি পার্টে ফোল্ড করা থাকবে, এতে আপনি এই অবস্থাতেই সাধারণ ইউজ করতে পারবেন। কিন্তু যখন বড় স্ক্রীন প্রয়োজনীয় হবে, জাস্ট ফোল্ড গুলো সরিয়ে স্ক্রীনকে বড় করে নিতে পারবেন। আর বড় স্ক্রীনের কতো সুবিধা থাকতে পারে সেগুলো নিশ্চয় বর্ণনা করার প্রয়োজন নেই, এক্সট্রা সুবিধা হিসেবে ফোনটিকে আবার মুরিয়ে পকেটে নিয়ে নিতে পারবেন।
ফিউচার ফোন
সাথে হয়তো আজকের মতো স্ক্রীন থাকবেই না ফিউচার ফোন গুলোতে। হতে পারে ফোনের মেন্যু সরাসরি হাওয়াতে ভেসে বেড় হবে। হ্যাঁ, আমি রিয়াল হলোগ্রাফিক স্ক্রীনের কথা বলছি, যেখানে স্ক্রীন থেকে যেকোনো কিছু হলোগ্রাম হয়ে বেড় হয়ে আসবে। হতে পারে ফোনের সাথে আলাদা কোন ডিভাইজ থাকবে যেটা ছাদে সেট করা থাকতে পারে, এতে আপনি হলোগ্রাফিক ভার্সনে কারো সাথে ভিডিও কল করতে পারবেন। সে ব্যাক্তিটি জাস্ট আপনার ফোনের স্ক্রীন থেকে বেড় হয়ে আসবে, এবং আপনার কাছে সমস্ত কিছু ব্যাস্তব মনে হবে। সাথে ডিসপ্লে এমন কোন ম্যাটেরিয়াল দ্বারা তৈরি করা হতে পারে, যেটাতে দাগ ফেলা বা ডিসপ্লে ভাঙ্গা অসম্ভব হয়ে যাবে।
আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স
অবশ্যই ফিউচার ফোন গুলোতে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বিস্তরভাবে ব্যবহার হতে আরম্ভ করবে। আপনার ফোনের নিজে থেকেই ধারণা থাকবে সে একটি ফোন, এবং সময়ের সাথে সাথে এবং আপনার ব্যাবহারের সাথে ফোনটি কিভাবে আপনাকে আরো বেটার এক্সপেরিয়েন্স প্রদান করবে, সেটা আয়ত্ত করে নেবে। আপনি কখন ঘুম থেকে উঠেন, আপনি কখন অফিসের জন্য বেড় হোন, আজ কি কারণে আপনার লেট হয়েছে সবকিছু ফোন আপনাকে আলার্ট করে দেবে, আপনাকে হয়তো ম্যানুয়ালি কিছুই করার প্রয়োজন পড়বে না। সাথে যেকোনো কথা আপনার সাথে সাথে ফোনও শুনে রাখবে এবং সেই অনুসারে কাজ করবে। এখন ধরুন আপনাকে মা ফোন করে বলল, বাসা ফিরার সময় অবশ্যই অমুক বাজার করে নিয়ে আসবে। ফোন সেটি বুঝতে পারবে, এবং নোট করে রাখবে। এবার বাসায় ফেরার সময় বাজারের দিক দিয়ে যেতেই জাস্ট ফোন আপনাকে মনে করিয়ে দেবে।
আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স
পার্সোনাল ডিজিটাল অ্যাসিস্ট্যান্ট মোটেও কোন রবোটিক মনে হবে না। সে যথেষ্ট বুদ্ধিমান হবে এবং প্রচণ্ড বুদ্ধির সাথে আপনার প্রত্যেকটি টাস্ক হান্ডেল করবে। ভবিষ্যৎ স্মার্টফোন এ হয়তো এমন কোন সেন্সর লাগানো থাকবে যেটা আমার স্বাস্থ্য নিয়মিত স্ক্যান করবে। যদি হঠাৎ করে কোন সাস্থের সমস্যা দেখা দেয়, আপনার ডিজিটাল অ্যাসিস্ট্যান্ট সরাসরি হসপিটালে ফোন করে দেবে আর জিপিএস লোকেশন পাঠিয়ে দেবে। হতে পারে সেসময়ে সেলফ ড্রাইভিং কারের ব্যাপক জনপ্রিয়তা বেড়ে যাবে, আর স্বয়ংক্রিয় এ্যাম্বুলেন্স আপনাকে নিতে চলে আসবে, এখানে মানুষের কোন প্রয়োজনই পড়বে না। তো এভাবে স্মার্টফোনের বদৌলতে লাখো মানুষের জীবন বেঁচে যাবে।
সেল সার্ভিস
ডুয়াল সিম কার্ড ব্যবহার করা এবং এটি স্মার্টফোনের বর্তমানে একটি স্ট্যান্ডার্ড ফিচার, এতে একটি ফোনে দুইটি নাম্বার ব্যবহার করার সুবিধা পাওয়া যায়। কিন্তু আমার মনে হয়, অদূর ভবিষ্যতে একটি সিম কার্ড একসাথে একাধিক নাম্বার ধারণ করার ক্ষমতা অর্জন করবে। আপনি যেকোনো সময় সিমের নাম্বার হয়তো পরিবর্তন করতে পারবেন বা সেল অপারেটর পরিবর্তন করতে পারবেন কোন প্রকারের ফিজিক্যাল সিম কার্ড পরিবর্তন না করে। আবার এমনটাও হতে পারে ফোনে আর সিম কার্ডের প্রয়োজনই থাকবে না। হয়তো সেল সিগন্যাল ফোনে এমনিতেই রিসিভ হবে আপনাকে জাস্ট কোন অপারেটর ব্যবহার করবেন সেটা মেন্যু থেকে সিলেক্ট করতে হবে এবং ঐ অপারেটরের ইউজার নেম আর পাসওয়ার্ড প্রবেশ করিয়ে অপারেটর থেকে সকল সুযোগ সুবিধা গুলো ভোগ করতে পারবেন। যখন ইচ্ছা জাস্ট ইউজার নেম পরিবর্তন করুণ, অপারেটর এবং সেল নাম্বারও পরিবর্তন হয়ে যাবে।
সেল সার্ভিস
অবশ্যই ফিউচার সেল নেটওয়ার্কে গিগাবিট ইন্টারনেট দেখতে পাওয়া যাবে। যদিও আজকের লেটেস্ট ৪জি টেকনোলজি কয়েক মেগাবিট পর্যন্ত স্পীড দিতে সক্ষম, কিন্তু সেটা অনেক ব্রডব্যান্ড থেকে অনেক কম স্পীড! অবশ্যই সেল অপারেটর’রা তাদের নেটওয়ার্ক প্রযুক্তিতে অস্বাভাবিক উন্নতি নিয়ে আসবে, হয়তো ৫জি বা ৬জি টেকনোলজি বেড় করার মাধ্যমে গিগাবিট ইন্টারনেট নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। আর কয়েক বছরের মধ্যে ফোনে যে টেরাবাইট স্টোরেজ দেখতে পাওয়া যাবে, সেটা আমি বিনা কল্পনা করেই বলে দিতে পারি।
সিকিউরিটি
২০৫০ সালের মধ্যে হ্যাকিং আর ক্র্যাকিং কোন লেভেল অর্জন করবে বুঝতে পাড়ছেন তো? তাহলে চিন্তা করে দেখুন, সিকিউরিটিকে কতোটা এগিয়ে রাখতে হবে। আজকের দিনে আমাদের কাছে লেটেস্ট সিকিউরিটি টেকনোলজি হিসেবে রয়েছে ফেস আইডি, দেখা যাক, এটা ব্যবহার করার পরে সত্যিই কতোটা সিকিউরিটি প্রদান করতে সক্ষম হয়। পাশাপাশি ফিঙ্গার প্রিন্ট বা টাচ আইডি অবশ্যই অনেক ভালো সিকিউরিটি ব্যবস্থা! কিন্তু এর চেয়েও আরো সিকিউর কিছুর কথা কল্পনা করা যাক। চিন্তা করা যাক ব্রেইন প্রিন্ট সিকিউরিটির কথা, যেখানে আপনার শরীরে সিকিউরিটির জন্য হতে পারে কোন চিপ প্ল্যান্ট করতে হতে পারে। চিন্তা করে দেখুন, ব্রেইন প্রিন্ট টেকনোলজির মাধ্যমে জাস্ট ফোন আনলক করার কথা মাথায় এনে আপনি ফোন আনলক করতে পারবেন। আপনাকে কেউ ফোর্স করতে পারবে না, যদি এই সিস্টেম চেক করে আপনার মস্তিষ্কে উত্তেজনা হচ্ছে আপনাকে ভয় দেখানো হচ্ছে, কখনোই আপনার ফোন আনলক হবে না। আর এই রকম সিকিউরিটি বাবস্থা এজন্যই কল্পনা করতে পারছি, কেনোনা এটা বর্তমানে আমাদের মাঝে লাইভ রয়েছে। আপনি আমার ব্রেইন প্রিন্ট আর্টিকেলটি পড়লেই বিস্তারিত জানতে পারবেন।
ব্রেইন প্রিন্ট সিকিউরিটি
আবার বায়োমেট্রিক চিপ ইমপ্ল্যান্টের কথা চিন্তা করুণ, মনে করুণ আপনার শরীরের মধ্যে বা হাতের মধ্যে কোন চিপ ইঞ্জেক্ট করে দেওয়া হলো, যেটা অনেকটা সিকিউরিটি কী’র মতো কাজ করবে। আপনাকে কোন পাসওয়ার্ড প্রবেশ করানোর দরকার পড়বে না, জাস্ট ফোনটি ঐ চিপের নির্দিষ্ট রেঞ্জে আসতেই ফোন আনলক হয়ে যাবে। ফিঙ্গার প্রিন্টকে আপনি পরিবর্তন করতে পারবেন না, কিন্তু ইলেকট্রনিক চিপের নাম্বার সহজেই পরিবর্তন করা সম্ভব।
যদি প্রযুক্তিতে সঠিকভাবে উন্নতি আনা সম্ভব হয়, এই আর্টিকেলের প্রত্যেকটি বাক্য সত্য করা সম্ভব হবে।
মেমোরি কার্ড কেনার আগে যা জেনে রাখা জরুরী

মেমোরি কার্ড কেনার আগে যা জেনে রাখা জরুরী

ডিভাইসে বাড়তি তথ্য সংরক্ষণে মেমোরি কার্ড খুবই প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ। মোবাইল ফোন, ট্যাবলেট কম্পিউটার, ক্যামেরা, টেলিভিশন, মিডিয়া প্লেয়ার ইত্যাদিতে মেমোরি কার্ড ব্যবহার করা যায়। মেমোরি কার্ডে প্রায় সব ধরনের ডাটা স্টোর করা যায়। মেমোরি কার্ডে সাধারণত গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্ট ও ফাইল সংরক্ষিত রাখা হয়। আকারে ছোট হওয়ায় এটি সহজে বহনযোগ্য। ফলে তথ্য সংরক্ষণে মেমোরি কার্ড জনপ্রিয়ও বটে। কিন্তু জনপ্রিয় এ মেমোরি কার্ড কেনার সময় আপনি হয়তো প্রায়ই দ্বিধার মধ্যে পরে যান। কেননা আলাদা আলাদা মডেল রয়েছে আর সঠিক মডেল এবং টার্মের দিকে বিশেষ গুরুত্ব রাখার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। যেমন-তেমন কোনো কার্ড কিনলে মনপুত পারফরমেন্স পাওয়া যায় না। ফলে মেমোরিকার্ড ব্যবহার করে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন অনেকেই। এজন্য সঠিক পারফরমেন্সের জন্য সঠিক মেমোরি কার্ড কেনার বিষয়ে কিছু টিপস দেওয়া হলো-

উপযুক্ত মেমোরি কার্ড নির্বাচন
যেকোনো মাইক্রো এসডি কার্ড যেকোনো মাইক্রো এসডি স্লটে সহজেই লাগানো গেলেও সব ফরম্যাট সব ধরনের ডিভাইজে কাজ করবে না। জেনে রাখা ভালো, তিনটি আলাদা কার্ড ফরম্যাট রয়েছে। এগুলো আলাদা স্ট্যান্ডার্ড এবং আলাদা ক্যাপাসিটির ওপর তৈরি। এসডি, এসডিএইচসি এবং এসডিএক্সসি-মাইক্রোএসডি এর ক্যাপাসিটি মাত্র ২জিবি পর্যন্ত হয়ে থাকে। যেকোনো এসডি কার্ড স্লটে এটি সমর্থিত হয়। মাইক্রো এসডিএইচসি ২ জিবি থেকে ৩২ জিবি পর্যন্ত ক্যাপাসিটি সমর্থন করে। যে ডিভাইসগুলো একে সমর্থন করে, শুধু সেখানেই এই কার্ডটি চলে। আর এসডিএক্সসি স্ট্যান্ডার্ডে ৩২ জিবি থেকে ২ টেরাবাইট পর্যন্ত মেমোরি কার্ড বানানো সম্ভব। আর সাপোর্টেড ডিভাইসই শুধু এই টাইপের কার্ড কাজে লাগাতে পারে। তাই নতুন মেমোরি কার্ড কেনার সময় স্টোরেজ ক্যাপাসিটি জেনে নেওয়া প্রয়োজন। কারণ বেশিরভাগ সময় একজন ইউজার কতো ক্যাপাসিটি মেমোরি কার্ড কিনবে, সেটা সঠিকভাবে নির্ধারণ করতে পারেন না। এর ফলে প্রয়োজনের তুলনায় হাই-ক্যাপাসিটির কার্ড কিনে ব্যবহার করলে ডিভাইস স্লো হয়ে যায়।
মেমোরি কার্ডের গতি
এসডিএইচসি এবং এসডিএক্সসি মেমোরি কার্ডগুলো আলট্রা হাই স্পিড বাস ইন্টারফেসকে সমর্থন করে। এই কার্ডগুলো অনেক দ্রুত ডাটা রিড রাইট করার ক্ষমতা রাখে। আলট্রা হাই স্পিডকে সাধারণত ইউএইচএস ধরা হয়। তবে ইউএইচএস থেকে সুবিধাগুলো পেতে অবশ্যই আপনার ডিভাইস এটিকে সমর্থন করতে হবে। এছাড়া মেমোরি কার্ড কতটা ফাস্ট হবে সেটা নির্ভর করে এর ক্লাস রেটিংয়ের উপর। মোট ৪টি ক্লাস রেটিং রয়েছে, ক্লাস ২— সর্বনিম্ন ২ মেগাবাইট/সেকেন্ড স্পিড; ক্লাস ৪— সর্বনিম্ন ৪ মেগাবাইট/সেকেন্ড স্পিড; ক্লাস ৬— সর্বনিম্ন ৬ মেগাবাইট/সেকেন্ড স্পিড এবং ক্লাস ১০— সর্বনিম্ন ১০ মেগাবাইট/সেকেন্ড স্পিড প্রদান করতে সক্ষম।
নকল কার্ড থেকে সাবধান
অনেকেই কম টাকা দিয়ে বড় বড় ক্যাপাসিটি মেমোরি কার্ড কিনে ফেলেন। জেনে রাখা ভালো, সেগুলোর ক্যাপাসিটি অনেক কম হয়ে থাকে। সেইসঙ্গে ক্লাস রেটিংও ভুল থাকে। দেখবেন মাত্র ২০০ টাকা দিয়ে ৩২ জিবি মেমরি কার্ড কিনেছেন। কিন্তু ৪ জিবি ডাটা লোড করার পরে ক্যাপাসিটি শেষ শো করবে বা প্যাকেটের গায়ে বা কার্ডের ফেক স্পিড রেটিং করা থাকে।

Tuesday, August 14, 2018

Youtube Income ইউটিউব চ্যানেলে আয় কত? আসুন আজকে সব রহস্য জানি ( Ma Studio Sandwip )

Youtube Income ইউটিউব চ্যানেলে আয় কত? আসুন আজকে সব রহস্য জানি ( Ma Studio Sandwip )



গান, নাটক, চলচ্চিত্র, টিভি অনুষ্ঠান থেকে শুরু করে এমন কোনো কনটেন্ট নেই যে আমরা ইউটিউবে দেখতে পাই না। বিনোদনের প্রধান মাধ্যম এখন ইউটিউব। টেলিভিশনের জন্য নয়, শুধু ইউটিউবকে কেন্দ্র করেও নির্মিত হচ্ছে বিভিন্ন অনুষ্ঠান। বিভিন্ন প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরাও খুলছেন ইউটিউব চ্যানেল। সর্বোপরি বাংলাদেশের বিনোদন জগৎ এখন অনেকটাই ইউটিউবকেন্দ্রিক হয়ে পড়েছে। সংগীতাঙ্গনের এখন প্রায় শতভাগ বিনিয়োগই ইউটিউবকে ঘিরে। প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের যেমন ইউটিউব চ্যানেল আছে, তেমনি অনেক কণ্ঠশিল্পীরই নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেল রয়েছে। শুধু মিউজিক কোম্পানি কেন, বর্তমানে দেশের প্রতিটি টিভি চ্যানেলেরও রয়েছে আলাদা ইউটিউব চ্যানেল। আর শুধু ইউটিউবকে কেন্দ্র করে খুব কম সময়ের ব্যবধানে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে প্রায় ডজনখানেক মানসম্পন্ন মিউজিক চ্যানেল। এ ছাড়া ব্যক্তিপর্যায়ে রয়েছে অগণিত চ্যানেল। ইদানীং অনেক উঠতি নায়ক-নায়িকা, গায়ক-গায়িকা ইউটিউব চ্যানেলকেন্দ্রিক কাজ করতে বেশি আগ্রহী। কিন্তু কেন? ইউটিউবের ব্যবসাটা আসলে কোথায়?

মুখে মুখে প্রচলিত আছে, কোনো গান, নাটক বা সিনেমা কিংবা যে কোনো কনটেন্ট ইউটিউবে এক কোটিবার দর্শক দেখলে ওই চ্যানেল মালিক ছয় লাখ টাকা পাবেন ইউটিউব কোম্পানি থেকে। কেউ কেউ বলেন, লাখ ভিউতে ২৩শ টাকা পাওয়া যায়। কোটি ভিউতে কোনো কোনো ক্ষেত্রে ২০-৫০ হাজারও পাওয়া যেতে পারে। আবার ৫-১০ লাখ টাকাও পাওয়া যেতে পারে। বিষয়টি সম্পূর্ণই নির্ভর করছে ওই ভিডিওটি কোন মহাদেশের দর্শক বেশিবার দেখেছে তার ওপর। যিনি চ্যানেলের মালিক তিনি প্রতিদিনই তার রেভিনিউর পরিমাণ সহজেই দেখতে পারেন। ইউটিউবের ড্যাশবোর্ড প্রতিদিনই প্রতিটি চ্যানেলে রেভিনিউ হিসাব করে সেটির আপডেট দিয়ে দিচ্ছে।


খুবই মজার বিষয় হলো, সারা বিশ্বে ইউটিউবের হাজার কোটি চ্যানেলেকে কন্ট্রোল করছে একটি রোবট। শুধু কন্ট্রোল নয়, চুরি করে অন্য কারো গান, নাটক বা সিনেমা হঠাৎ করে আরেকটি চ্যানেলে প্রচার হচ্ছে কিনা, সেটিও বিচার করছে এই রোবট এবং ক্লেম (অভিযোগ) করে ভিডিওটির রেভিনিউ ছিনিয়ে আঞ্ছে আসল মালিকের কাছে কিংবা ডিলিট করে দিচ্ছে মালিকের নিরদেশনা অনুযায়ী। এভাবে ওই রোবটের মাধ্যমে তিন মাসে কোনো একটি চ্যানেল যদি তিনবার ক্লেমের আওতায় পড়ে, তা হলে ওই চ্যানেল অটো বন্ধ করে দেওয়া হয়।

ইউটিউব মূলত আমেরিকান কোম্পানি। তবে যে কেউ ইচ্ছে করলেই কয়েক মিনিটের ব্যবধানে একটি ইউটিউব চ্যানেল খুলতে পারেন। কিন্তু আপনার রেগুলার চ্যানেলে আপনি কন্টেন্ট আইডি সুবিধা পাবেন না। সে ক্ষেত্রে আপনাকে শরণাপন্ন হতে হবে কোনো না কোনো এমসিএনের (মাল্টি চ্যানেল নেটওয়ার্ক)। বাংলাদেশে এখন ৮-৯টি এমসিএন প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যারা বেশ ব্যস্ত সময় পার করছে এবং সুনামের সঙ্গে কাজ করছে। এ রকমই একটি প্রতিষ্ঠান লাইকা নেটওয়ার্ক। লাইকা নেটওয়ার্ক মুলত লন্ডন ভিত্তিক এমসি এন প্রতিষ্ঠান যাদের ৫৩ টি দেশে কার্যক্রম চালু আছে। লাইকা নেটওয়ার্কের বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী রায়হান শরীফ বলেন, ‘যে কেউ চ্যানেল খুলতে চাইলেই আমরা তাকে সহযোগিতা করি এবং সে তার চ্যানেলে যে কোনো কনটেন্ট আপলোড নিজেই করতে পারবেন। কনটেন্ট ক্লেমের ক্ষেত্রেও আমরা পরামর্শ দিয়ে থাকি। সবচেয়ে বড় কথা, একটি চ্যানেল খুললেই কিন্তু লাখ লাখ ভিউ পাওয়া যায় না। এর জন্য প্রয়োজন ভাল কন্টেন্ট, প্রমোশন আর সাবস্ক্রাইবার বাড়ানো। এ বিষয়গুলোয় আমরা সহযোগিতা করি।’ এতে করে আপনাদের লাভ কী? এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘যার সঙ্গে আমাদের চুক্তি হবে চ্যানেলের বিষয়ে ওই চুক্তিতেই উল্লেখ থাকবে রেভিনিউর ২০ ভাগ আমরা পাব। অর্থাৎ কোনো চ্যানেল ১০০ ডলার ইউটিউব থেকে পেলে আমরা নেব ২০ ডলার, চ্যানেল মালিক পাবেন ৮০ ডলার।’

ডলার তো আপনাদের অ্যাকাউন্টে জমা হবে, সে ক্ষেত্রে স্বচ্ছতার প্রশ্ন আসতে পারে। রায়হান শরিফ জানান, এ ব্যবসাটির রেভিনিউতে পূর্ণ স্বচ্ছতা রয়েছে। যিনি চ্যানেল মালিক, তিনি প্রতিদিনই তার রেভিনিউ ইউটিউবেই সরাসরি দেখতে পাবেন।

সময়ের আরেকটি আলোচিত এমসিএন প্রতিষ্ঠান কাইনেটিক মিউজিক। কাইনেটিক মিউজিকের মুখপাত্র সংগীতশিল্পী জুয়েল মোর্শেদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, মালিকদের কাছ থেকে রেভিনিউর ৩০ ভাগ আমরা নিচ্ছি। এটি আসলে প্রতিষ্ঠান হিসেবে নির্ভর করে থাকে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে কমবেশিও হতে পারে। গান প্রসঙ্গে জুয়েল মোর্শেদ বলেন, ‘গানের রেভিনিউ অন্য কনটেন্টের তুলনায় একটু কমই আসে। কারণ ৩-৪ মিনিটের গানে বিজ্ঞাপন শো একবারই করে। সে ক্ষেত্রে কনটেন্ট যদি ১০ মিনিটের ওপরে হতো তা হলে বিজ্ঞাপন শো কয়েক বার হতো। সে ক্ষেত্রে রেভিনিউয়ের পরিমাণও বাড়ত।’

বর্তমানে বাংলাদেশে ইউটিউব চ্যানেলগুলোর মধ্যে অনেক চ্যানেলই প্রতিমাসে ৫০ হাজার থেকে ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত পাচ্ছে। শিল্পীদের মধ্যে যাদের নিজস্ব চ্যানেল রয়েছে, তারা প্রতিমাসে কমপক্ষে ২৫ হাজার থেকে প্রায় দুই লাখ টাকা পাচ্ছেন। আর মিউজিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানই বেশ সম্মানজনক অঙ্কের টাকা আয় করছে। জানা গেছে, এর পরিমাণ এক লাখ থেকে ১২-১৩ লাখ টাকা পর্যন্ত। বর্তমানে যেসব প্রতিষ্ঠান সর্বোচ্চ রেভিনিউ পাচ্ছে ইউটিউব থেকে তাদের মধ্যে রয়েছে সিডি চয়েস, ধ্রুব মিউজিক স্টেশন, সংগীতা, জি-সিরিজ প্রমুখ প্রতিষ্ঠান।

বাংলাদেশে এখন এমন কিছু ইউটিউব চ্যানেল রয়েছে যেগুলো উল্লিখিত চ্যানেলগুলোর চেয়েও কিছু কিছু ক্ষেত্রে অনেক বেশি অর্থ উপাজর্ন করছে। কিন্তু সেসব চ্যানেল আসলে অশ্লীলতা বা তথাকথিত কিছু বিতর্কিত কনটেন্টে ভরপুর। আবার কিছু গুঞ্জন বা গসিফনির্ভর চ্যানেল রয়েছে, যেগুলো তাদের মনগড়া তারকা সংবাদের অডিও দিয়ে তারকাদের ছবি ব্যবহার করে ইউটিউবে আপলোড করে অর্থ কামাচ্ছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক অভিনেত্রী বলেন, ‘আমি এ পর্যন্ত ২০টি নাটকে অভিনয় করেছি। কিছু কিছু নাটকে বেশ বড় চরিত্রেই কাজ করেছি। কিন্তু কেউ আমাকে চেনে না। খোদ আমার অনেক আত্মীয়স্বজনই প্রশ্ন করেন, নাটকে কাজ করছিস কোনো দিন তো দেখলাম না টিভিতে? আসলে এত চ্যানেলের ভিড়ে কোন নাটক কোন চরিত্র কখন চলে যাচ্ছে দেখার কেউ নেই। সে দিক দিয়ে ইউটিউবকেন্দ্রিক চ্যানেলে কাজ করলে চাইলেই দেখাতে পারব আমার কাজ। লাখ লাখ দর্শক আমাকে ইউটিউবে দেখছে এটিই তো প্রশান্তি।’

সংগীতশিল্পী আসিফ আকবরের ইউটিউব চ্যানেল ‘আসিফ’-এর সাবস্ক্রাইবার এক লাখ পার করেছে (১ লাখ ২৪ হাজার ২৫৯)। ইউটিউব প্রসঙ্গে আসিফ আকবর বলেন, ‘এক সময় আমি নিজে ইউটিউব নিয়ে ভাবিনি। সময় আমাকে এসব নিয়ে ভাবতে বাধ্য করেছে। নিজের ইউটিউব চ্যানেল প্রকাশ করি। গান গাওয়া নিয়ে যে অলসতা ভর করেছিল অর্ধযুগ আগে, সেই অলসতা এখন হাজার মাইল দূরে অবস্থান করছে। এখন গান আর শুটিংয়ে নিজেকে এমনভাবে বদলে নিয়েছি যে, মনে হয় নতুন করে ক্যারিয়ারে সংগ্রাম করছি। আগামী যুগে যদি দেখি কোনো টিভি চ্যানেলই নেই, তা হলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। কেননা টিভি চ্যানেলও সব ধীরে ধীরে ইউটিউবকেন্দ্রিক হয়ে যাচ্ছে।’

Tuesday, July 31, 2018

VPN কি? কেন, কোন কজে লাগে। জেনে নিন এর সুবিধা ও অসুবিধা সহ সম্পূর্ন বিস্তারিত। নেট ব্যবহার করীদের জন্য VPN এর কোন বিকল্প নেই (অবশ্যই জেনে রাখা উচিত)

VPN কি? কেন, কোন কজে লাগে। জেনে নিন এর সুবিধা ও অসুবিধা সহ সম্পূর্ন বিস্তারিত। নেট ব্যবহার করীদের জন্য VPN এর কোন বিকল্প নেই (অবশ্যই জেনে রাখা উচিত)

VPN শব্দটার সাথে আমরা সবাই কম-বেশি পরিচিত। তবে শুধু নামের সাথেই পরিচিত, কিন্তু ইহা যে কি জিনিস তা অধিকাংশ মানুষই জানে না। আজকে আমরা VPN কি, এর কাজ কি- এসমস্ত বিষয় সম্পর্কে সংক্ষেপে আলোচনা করবো।

VPN এর পূর্ণ রূপ হল- Virtual Private
Network.
 সোজা বাংলায় এর সংজ্ঞা দাড়ায়, VPN হল একটা কাল্পনিক ‘Tunnel’ যার মাধ্যমে

নিরাপদে তথ্য আদান প্রদান করা যায়। এই ‘Tunnel’ বা সুড়ঙ্গের বাস্তবে কোন অস্তিত্ব নেই, এটি দিয়ে মূলত কাল্পনিক একটা প্রাইভেট
নেটওয়ার্ক বোঝানো হচ্ছে যেটি দিয়ে
ইন্টারনেটে নিরাপদে তথ্য আদান প্রদান করা যায়। আমরা এখন ‘নিরাপদ’ keyword টির উপর ফোকাস করবো। ইন্টারনেট মূলত উন্মুক্ত তথ্য আদান প্রদানের জায়গা। যেহেতু এটি পাবলিক নেটওয়ার্ক অর্থাৎ, পৃথিবীর সবাই সংযুক্ত তাই এখানে সরাসরি তথ্য আদান-প্রদানের ক্ষেত্রে তথ্যের গোপনীয়তা ফাঁস হয়ে যাবার একটা ঝুঁকি আছে। এই ঝুঁকি এড়ানোর জন্য ইন্টারনেট ব্যবহার করে নিজের ব্যক্তিগত বা প্রাইভেট নেটওয়ার্কে সংযুক্ত হওয়ার নিরাপদ পদ্ধতিই হল VPN। এই পদ্ধতিতে ব্যবহারকারী এবং প্রাইভেট নেটওয়ার্ককে সংযুক্ত করার জন্য ইন্টারনেটে একটি কাল্পনিক সুড়ঙ্গ তৈরী হয়।

VPN-এর শ্রেণীবিভাগঃ VPN-কে বিভিন্নভাবে classify করা যায়।

যেমন- PPTP VPN, Site to Site VPN, L2TP VPN, Remote Access VPN, IPsec, SSL, MPLS VPN, Hybrid VPN ইত্যাদি।কিভাবে VPN কাজ করে?একটি VPN সার্ভারে VPN ক্লায়েন্ট একটি বাহ্যিক নেটওয়ার্ক ইন্টারফেসের মাধ্যমে সংযুক্তহতে পারেন। VPN-এর মাধ্যমে ব্যবহারকারী এবং প্রাইভেট নেটওয়ার্ককে সংযুক্ত করার জন্য ইন্টারনেটে একটি কাল্পনিক সুড়ঙ্গ তৈরী হয় (যেটা আমরা আগেই বলেছি)। এই পদ্ধতিতে তথ্য encrypted অবস্থায় আদান- প্রদান করা হয়, ফলে তথ্যগুলো সুরক্ষিত থাকে। VPN এর জন্য প্রাইভেট
নেটওয়ার্কে একটা VPN সার্ভার থাকে এবং ব্যবহারকারীর পিসিতে VPN ক্লায়েন্ট কনফিগার থাকে। যখন কোন ব্যবহারকারী VPN এর মাধ্যমে তার প্রাইভেট নেটওয়ার্কে সংযুক্ত হতে চাইবে প্রথমে তার পিসিতে ইন্টারনেট কানেকশন নিশ্চিত করতে হবে এর পর VPN ক্লায়েন্টের মাধ্যমে VPN সার্ভারে লগিন করবে। লগিন করার পর যদিও ব্যবহারকারী তার নেটওয়ার্ক থেকে অনেক দূরে অবস্থান করছে তারপরেও সে প্রাইভেট নেটওয়ার্কের সব সুযোগ সুবিধাগুলো পাবে।

VPN-এর সুবিধাগুলো কি কি?

১। VPN ব্যবহার করার অর্থ হল আপনি ডাটা নিরাপদে আদান প্রদান করতে পারছেন।
২। VPN ব্যবহার করলে আপনার অবস্থান কেউ ট্র্যাক করতে পারবে না।
৩। IP address (Internet Protocol address) হাইড করে রাখে। অর্থাৎ, হ্যাকারদের কবলে পড়ার সম্ভাবনা নাই।
৪। আপনার ইন্টারনেট সেবা প্রদানকারী আইপিএস থেকে নেটের ফুল স্পিড পাবেন।
৫। VPN দিয়ে আপনি আইএসপি তে ব্লক করা সাইট ভিজিট করতে পারবেন। যেমন ধরেন, যদি ইউটিউব আমাদের দেশে বন্ধ করে দেয়া হয়, তাহলেও আপনি VPN ব্যবহার করে ইউটিউবে ঢুকতে পারবেন।
৬। এটি নিরাপদ যোগাযোগ এবং ডাটা encrypt করার একটি পদ্ধতি হিসেবে কাজে লাগে। মানে VPN আপনার মেশিনকে একটি ভার্চুয়াল নেটওয়ার্কের সঙ্গে সংযুক্ত করতে পারে এবং আপনার পাঠানো সব data দ্রুততার সঙ্গে encrypt করে ফেলে অর্থাৎ public domain থেকে লুকিয়ে রাখে এবং এটা আপনার browsing history-র কোনো ট্র্যাক রাখে না। কাজেই আপনি অনলাইনে পুরোপুরি নিরাপদ।

তবে এত সুবিধার পরেও VPN-এর কিছু অসুবিধা রয়েছে।

এর প্রধান অসুবিধা হচ্ছে এটি আপনাকে টরেন্ট ফাইল ডাউনলোডের সুবিধা দেবে না এবং এটি সম্পূর্ণ ইন্টারনেট নির্ভর। VPN সার্ভিস ফ্রি কিংবা প্রিমিয়াম হতে পারে। যদিও
অধিকাংশ VPN সার্ভিসের ক্ষেত্রেই টাকা গুণতে হয়। তবে কিছু জনপ্রিয় ফ্রি VPN সার্ভিস রয়েছে, যা দিয়ে আপনি প্রিমিয়ামের কাছাকাছি সুবিধা পাবেন। যেমন- ProXPN, Hotspot Shield,
Cybershost, SecurityKiss, SpotFlux ইত্যাদি।

Saturday, July 28, 2018

স্মার্টফোন ফাস্ট করার ১১টি টিপস

স্মার্টফোন ফাস্ট করার ১১টি টিপস

স্মার্টফোন দিয়ে আজকাল শুধু যোগাযোগ নয়, ছবিতোলায়, গান কিংবা মুভি দেখায়, ইন্টারনেট বা গেমস খেলাও ব্যবহার সর্বত্র। তাই ফোনটি কাজের সময় ধীরগতির হয়ে গেলে ভাল লাগেনা কারই। আসুন জেনে নেয়া যাক স্মার্টফোন দ্রুতগতির রাখতে ১১টি সহজ টিপস:

১. অব্যবহৃত এপস মুছে ফেলা:

যে এপটি ব্যবহার করা হয়না তা ফোনে না রাখাই ভাল।অপ্রয়োজনীয় এপস শুধু ইন্টারনাল মেমরি দখলই করেনা এরা ফোনের কার্যক্ষমতা কমিয়ে দেয়।

২. ক্যাশে মেমরি পরিষ্কার রাখা:

সবসময় ক্যাশে মেমরি (cache memory) মুছে ফেলুন। এতে ফোন দ্রুত গতি হবার সাথে সাথে এপস গুলিও আরো সুচারুভাবে চলতে সক্ষ্মম হবে।

৩. ব্যাকগ্রাউন্ড এপস বন্ধ রাখা:

ব্যাকগ্রাউন্ড এ রানিং এপস বন্ধ রাখুন।ব্যাকগ্রাউন্ড এপস ফোনের ব্যাটারি ও কার্যক্ষমতা কমিয়ে ফোনকে স্লো করে দেয়।

৪. ফোন কে আপ টু ডেট রাখা:

ফোন কে আপ টু ডেট রাখুন।সাধারনত এন্ড্রয়েডের আপডেটেড ভার্সন অনেক নতুন ফিচার যোগ করে ও পুরাতন ত্রুটি দূর করে।

৫. ফাঁকা হোমস্ক্রীন:

হোমস্ক্রীন ফাঁকা রাখুন। হোমস্ক্রীন যত ফাঁকা হবে ফোনের উপর চাপ তত কম হবে।

৬. নো এনিমেশন:

এনিমেশন কম রাখুন অথবা বন্ধ করে দিন। এনিমেটেড ওয়ালপেপার বা উইজেট এর ব্যবহার ফোনকে দৃষ্টিনন্দন করলেও তা পারফরমেন্স এ ব্যাঘাত ঘটাতে পারে।

৭. নিরাপদ এপ ইন্সটল:

কোন এপ ইনস্টলের পূর্বে ভাল মত যাচাই করে নিন যে তা নিরাপদ কিনা।

৮. হালকা এপ ব্যবহার:

যদি সম্ভব হয় এপের লাইটার ভার্সন ব্যবহার করুন।

৯.  এসডি কার্ড ফরম্যাট:

ইন্টারনাল মেমোরিতে এপস ইন্সটল করা এবং এক্সটারনাল মেমরি মাঝে মাঝে ফরম্যাট দেয়া ফোনের পারফরমেন্স বাড়াতে সাহায্য করবে।

১০ ক্লিনার এপ ব্যবহার করা:

বিভিন্ন ক্লিনার এপস ব্যবহার করে ফনের গতি বারাতে পারেন। আজকাল অনেক স্মার্টফনে ক্লিনার এপ ডিফল্ট ভাবে ইন্সটল করা থাকে।

১১. রিস্টার্ট :

কখনো কখনো সামান্য রিস্টার্টই দিতে পারে আপনার ফোনের কাংখিত গতি।

Friday, July 27, 2018

নকল চার্জার বুঝবেন কিভাবে?

নকল চার্জার বুঝবেন কিভাবে?

অনলাইন থেকে নকল ইলেকট্রিক গেজেট কেনা নিয়ে একটি সমীক্ষা চালানো হয়েছিল।এতে জানা গেছে, চারশ’ নকল চার্জারের মধ্যে মাত্র তিনটিতে বৈদ্যুতিক শক ঠেকাতে যথেষ্ট প্রতিরোধোক ব্যবহার করা হয়।যার ফলে চার্জার ব্যবহারকারীর অনেকে মারাত্মক ঝুঁকিতে আছেন বলে সতর্ক করেছেন তদন্তকারীরা।অ্যামাজনে এই সময়ে ‘নকল’ গেজেট বিক্রির ‘হিড়িক’ পড়েছে বলে অ্যাপলের পক্ষ থেকে অভিযোগ তোলা হয়, এর পর থেকে এই পরীক্ষা চালানো হয় বলে জানা গিয়েছে।
যেভাবে চিনবেন ঝুঁকিপূর্ণ নকল চার্জার
প্লাগ পিন:
কোনো সকেটে সুইচ চালু করে আর প্লাগটি কোনো ডিভাইসের সঙ্গে কানেক্ট না করে, প্লাগের পিন সকেটে ঢুকানোর পর যদি দেখা যায় তা সঠিকভাবে খাপ খাচ্ছে না, তাহলে পিনগুলো ভুল আকারে বানানো হয়েছে বলে ধরা যেতে পারে। পিন-এর ধার আর চার্জারের ধারের মধ্যে অন্তত ৯.৫ মিলিমিটার জায়গা থাকতে হবে।
মার্কিং:
উৎপাদনকারী সংস্থাটির ব্র্যান্ড নাম বা লোগো, মডেল, ব্যাচ নাম্বার আর নিরাপত্তা নির্দেশক চিহ্ন যাচাই করতে হবে। যদিও এগুলো সহজেই নকল করা যায়, তা নিয়েও সতর্ক থাকতে হবে।
সতর্কতা ও নির্দেশনা:
ইউজারদের নির্দেশনায় শর্ত আর ব্যবহারের নীতিমালা দেওয়া থাকতে হবে।এগুলোর মধ্যে কীভাবে নিরাপদে চার্জার ব্যবহার করতে হবে- এমন নিরাপত্তামূলক নির্দেশনা ও ব্যবহার শেষে তা নষ্ট করার উপায় বলা থাকতে হবে।

Thursday, July 26, 2018

হ্যাকারদের হাতের মুঠোয় ৩০ লাখ স্মার্টফোন!

হ্যাকারদের হাতের মুঠোয় ৩০ লাখ স্মার্টফোন!

স্মার্টফ্রিজ বা বাসাবাড়ির অন্যান্য ইলেক্ট্রনিক যন্ত্রপাতিতে ম্যালওয়্যার সংক্রমণের খবর বেরিয়েছে সম্প্রতি। অ্যাডুপস (Adups) নামে ফার্মওয়্যারটি অতি সাধারণ ইলেক্ট্রনিক্স থেকেও তথ্য চুরি করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এর চেয়ে ভয়াবহ খবর হচ্ছে বিশ্বব্যাপী ৩০ লাখেরও বেশি অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোনে মারাত্মক নিরাপত্তা ত্রুটি রয়েছে।
অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীদের জন্য এর চেয়ে দুঃসংবাদ আর হতে পারে না। তবে যেসব ফোনে Rootkit/Backdoor অ্যাপটি আগে থেকেই কোম্পানি ইনস্টল করে দিয়েছিল শুধু সেসব ফোনেই এই ঝুঁকি রয়েছে।
ইন্টারনেট নিরাপত্তা কোম্পানি বিটসাইট (BitSight) বলছে, সস্তা ফোনগুলোতেই এই সমস্যা রয়েছে। প্রিইনস্টলড ফার্মওয়্যারটি নিরাপত্তা দুর্বলতা তৈরি করে। ফলে এটি হ্যাকিংয়ের জন্য মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করে। সস্তার সব অ্যান্ড্রয়েড ফোনের এটি একটি সাধারণ সমস্যা।
এর ফলে হ্যাকাররা খুব সহজেই যেকোনো ফোনের রুট একসেস পায় এবং পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নিতে পারে।
এখন পর্যন্ত এই ধরনের নিরাপত্তা ত্রুটিযুক্ত ফোনগুলোর মধ্যে রয়েছে- BLU Studio G, BLU Studio G Plus,
BLU Studio 6.0 HD, BLU Studio X, BLU Studio X Plus, BLU Studio C HD, Infinix Hot X507,
Infinix Hot 2 X510, Infinix Zero X506, Infinix Zero 2 X509, DOOGEE Voyager 2 DG310, LEAGOO Lead 5, LEAGOO Lead 6, LEAGOO Lead 3i, LEAGOO Lead 2S, LEAGOO Alfa 6,
IKU Colorful K45i, Beeline Pro 2, XOLO Cube 5.0 ।
ইতিমধ্যে কিছু ফোন কোম্পানি এই নিরাপত্তা দূর করতে গ্রাহকদের সফটওয়্যার আপডেট দিয়েছে।
বিটসাইট জানিয়েছে, উল্লেখিত মডেলগুলোর মধ্যে কমপক্ষে ৫৫টি ডিভাইস থেকে তথ্য চুরি গেছে। আক্রান্ত ডিভাইসের মধ্যে ২৬ শতাংশ ব্লু, ১১ শতাংম ইনফিনিক্স এবং ৮ শতাংশ গুগি কোম্পানি তৈরি করেছে।
সেকেন্ড লাগবে মোবাইল চার্জ হতে

সেকেন্ড লাগবে মোবাইল চার্জ হতে

আজকাল স্মার্টফোনের চার্জ ফুরিয়ে যায় খুব দ্রুতই। যা নিয়ে বিপাকে পড়তে হয় ব্যবহারকারীদের। এই ঝামেলা থেকে বাঁচাতে আমেরিকার সেন্ট্রাল ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক নতুন এক প্রযুক্তি আবিষ্কার করেছেন, যা কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই স্মার্টফোন সম্পূর্ণ চার্জ হওয়াতে সাহায্য করবে। ‘ফ্লেক্সিবল সুপারক্যাপাসিটর’ নামের ওই প্রযুক্তিতে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই চার্জ দেওয়া যাবে স্মার্টফোনে।
গবেষকরা জানিয়েছেন, মোবাইল ফোনে ব্যাটারির বদলে এই ‘সুপারক্যাপাসিটর’ রাখলেই কয়েক সেকেন্ডের মধ্য ফুল চার্জ হয়ে যাবে স্মার্টফোন। এরপর এক সপ্তাহ চার্জ না দিলেও চলবে।

ফেসবুকে আগ্রহ কমছে তরুনদের!

ফেসবুকে আগ্রহ কমছে তরুনদের!

সামাজিক যোগাযোগের জনপ্রিয় ওয়েবসাইট ফেসবুকের প্রতি আগ্রহ কমছে তরুণদের! বিষয়টি নিয়ে বেশ চিন্তায় আছে ফেসবুক কর্তারা। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে ক্রমাগত ভাবে তরুণদের আকৃষ্ট করার বিষয়টি আগের মতো করতে পারছে না ফেসবুক। বিষয়টি এমন, স্কুল কিংবা কলেজের কোন শিক্ষার্থী যদি অনলাইনে যায় সেটি অন্য বন্ধুদের জন্যও অনলাইনে যাওয়ার আমন্ত্রণের মতো। আবার যদি এক বন্ধু অনলাইন ছেড়ে দেয় বা নির্দিষ্ট কোন ওয়েবসাইটে না যায় দেখা যাচ্ছে অন্য বন্ধুরাও সে ওয়েবসাইটে বা অনলাইনে যাওয়া বন্ধ করে দিচ্ছে।
তবে এমন তথ্য মনগড়াও নয়। গবেষণা প্রতিষ্ঠান পিউ রিসার্চের মতে, তরুণরা প্রচণ্ডভাবে ফেসবুকের বদলে ভিডিও দেখার জনপ্রিয় ওয়েবসাইট ইউটিউবে ঝুঁকে পড়ছে। গবেষণায় দেখা গেছে তরুণদের প্রায় ৮৫ শতাংশই নিয়মিত ভাবে ফেসবুক ছেড়ে ইউটিউব ব্যবহার করে। ফেসবুক ব্যবহারের জন্য ১৩ থেকে ১৭ বছরের কিশোর-তরুণদের মধ্যে ফেসবুক এখন আর সবচেয়ে জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্ম নয়। শুধু তাই নয়, তালিকার প্রথম তিনটির মধ্যেও ফেসবুকের নামও নেই! তালিকার শীর্ষে থাকা ইউটিউবের পরেই রয়েছে ইন্সটাগ্রাম ও স্ন্যাপচ্যাটের স্থান।
এ ঘটনাটি দেখানো হয়েছিল ফেসবুক নিয়ে ২০১০ সালে মুক্তি পাওয়া দি সোশ্যাল নেটওয়ার্ক‘ নামের চলচ্চিত্রেও। সেখানে মার্ক জাকারবার্গের চরিত্রের একটি সংলাপেই ছিল এমন “স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রীরা অনলাইনে যায়, কারণ তাদের বন্ধুরা অনলাইনে। তাই একজন সরে পড়লে, অন্যরাও সরে পড়ে।”
যুক্তরাষ্ট্রে ফেসবুক ব্যবহার করছে এমন তালিকায় কিশোরদের অবস্থান চতুর্থ। গবেষণার তথ্য অনুযায়ী ৫১ শতাংশ তরুণ-তরুণী এখনও ফেসবুক ব্যবহার করছে। ব্যবহারের হার কমা শুরু হয় ২০১৫ সাল থেকে। সে বছর থেকে ফেসবুক ২০ শতাংশ ব্যবহারকারী হারিয়েছে। তবে ফেসবুক কর্তপক্ষের কাছে আশারবানীও রয়েছে। গবেষণায় উঠে এসেছে অসচ্ছল পরিবারের সন্তানদের কাছে এখনও জনপ্রিয় ফেসবুক।
গবেষণা প্রতিষ্ঠান জিবিএইচ ইনসাইটের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে তরুনদের মধ্যে ফেসবুক আকর্ষণ কমে যাচ্ছে বলে যে জল্পনা চলছিল, সর্বশেষ গবেষণায় তা সত্য বলে প্রমাণিত হচ্ছে। ফেসবুকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মার্ক জাকারবার্গ জানিয়েছেন, ২০১৭ সালের শেষ তিন মাসে ফেসবুকে কাটানোর সময় ৫ কোটি ঘণ্টা কমেছে।
ফেসবুকে বিভিন্ন বয়সীদের গতিবিধি, বিশেষ করে তাদের বাবা-মা এবং গুরুজনদের অবস্থানের কারণে অনেক তরুণ-তরুণী এই প্লাটফর্ম ছেড়ে চলে যাচ্ছে বলে ধারণা করছেন গবেষকেরা। বন্ধুদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগের জন্য অনেকে আর ফেসবুক ব্যবহার করে না। এক্ষেত্রে ইউটিউব, স্ন্যাপচ্যাট এবং ইনস্টাগ্রামের ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তার অন্যতম প্রধান কারণ- এসব প্ল্যাটফর্মে ছবি এবং ভিডিওর প্রাধান্য।
তবে তরুণদের মধ্যে গ্রহণযোগ্যতা হারালেও, সামগ্রিকভাবে এখনও ফেসবুক সবচেয়ে জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। ২০১৮ সালের প্রথম তিন মাসে নতুন চার কোটি ৮০ লাখ মানুষ প্রতিদিন ফেসবুকে ঢুকছে।